অটিজম শিশুদের মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার অঙ্গীকার

আমার দেশ অনলাইন

অটিজম শিশুদের মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার অঙ্গীকার

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো “অটিজম ও মানবতা: সমান মর্যাদার বাংলাদেশ” শীর্ষক এক গুরুত্ববহ রাউন্ডটেবিল আলোচনা। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা, সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য— “Autism and Humanity – Every Life Has Value”-কে সামনে রেখে এই বিশেষ সভার আয়োজন করে ফাউন্ডেশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনোভেশনস ইন টেকনোলজি অ্যান্ড হেলথ (faith Bangladesh)। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে Orbis International এবং ইনার হুইল ডিস্ট্রিক্ট ৩৪৫-এর অন্তর্ভুক্ত তিনটি ক্লাব— আইডব্লিউসি আরুশি, লোবেলিয়া এবং ওয়েসিস ঢাকা।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. তরিকুল আলম। তিনি অটিজম মোকাবিলায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এটি একটি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিদের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইনার হুইল ডিস্ট্রিক্ট ৩৪৫-এর চেয়ারম্যান মিসেস মুশায়লা করিম নারী ও শিশুদের উন্নয়নে তাদের সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. সবুর খানের পক্ষে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (স্কিলস) ড. কে. এম. হাসান অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ‘Autism to Earning Program’-এর মাধ্যমে টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিশেষায়িত স্কিল ট্র্যাক ও স্কিল ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব দেন এবং ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

faith Bangladesh-এর চেয়ারম্যান ড. আফতাব উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও আইডব্লিউসি আরুশির প্রেসিডেন্ট নিলুফার আহমেদ করিম। গোলটেবিল আলোচনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, নীতিনির্ধারক, গবেষক, চিকিৎসক এবং অভিভাবকদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ড. ইমদাদুল হক তালুকদার, অধ্যাপক তাহমিনা আখতার টফি, অধ্যাপক শারমিন আহমেদ, ফারাহনাজ কাইয়ুম, সাজেদা আক্তার, শামীমা সিরাজী, প্রতীক ইজাজ, ফারহানা নাজনিন, সায়েদা মুনীরা ইসলাম, ফারজানা আবেদিন, মারুফা হোসেন, মারিয়াম মনোয়ার, কোহিনূর আক্তার এবং শিক্ষার্থী গবেষক স্বপরাজিতা তালুকদার অধরাসহ আরও অনেকে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, অটিজম কেবল স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি একটি গভীর সামাজিক ইস্যু। সামাজিক কুসংস্কার, বৈষম্য এবং সচেতনতার অভাব এই শিশুদের ও তাদের পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক গবেষণার বরাত দিয়ে বক্তারা জানান, অটিজম শিশুদের অভিভাবকদের মানসিক চাপ সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও দৃশ্যমান। এই সংকট উত্তরণে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং সিভিল সোসাইটির সমন্বয়ে একটি ‘কার্যকর ফোরাম’ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ড. আফতাব উদ্দিন সচেতনতা বৃদ্ধি, কুসংস্কার দূরীকরণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানান। সঞ্চালক নিলুফার আহমেদ করিম তার সমাপনী বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের উদ্যোগ কেবল এককালীন কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈচিত্র্যময় ও টেকসই সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অটিজমসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমান মূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...