ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড প্রতারণা চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার

ক্রেডিট ও ডেবিট  কার্ড প্রতারণা চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড প্রতারণা চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট। সোমবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।

ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড সংক্রান্ত প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত মো. রাকিবুল ইসলামকে (২৩), গত ১২ এপ্রিল রোববার রাত সাড়ে ৭টায় দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, খুলনা বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত ৬ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির কল পান। কলকারী নিজেকে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের “নেক্সাস পে” ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কার্ডের তথ্য হালনাগাদের কথা বলেন।

সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী তার ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য প্রদান করেন। এর সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্র ৭ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ১২টি অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন করেন এবং সর্বমোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৫ টাকা আত্মসাৎ করেন।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তীতে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি সিআইডি অধিগ্রহণ করার পর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিটের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে এবং অভিযানের মাধ্যমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করেন যে, তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার ভাষ্যমতে, ২০২৩ সাল থেকে টেলিগ্রাম নামক একটি মেসেজিং অ্যাপে (Telegram) বিভিন্ন অনলাইন কাজের প্রলোভনে পড়ে তিনি প্রতারক চক্রটির সঙ্গে যুক্ত হন।

পরবর্তীতে চক্রটির নির্দেশনায় তিনি “Line Bet” ও “Raddy” নামীয় অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতারক চক্রকে সহায়তা করতেন। একই সঙ্গে আত্মীয়স্বজনের একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যাদি সংগ্রহ করে সেগুলো অবৈধ অর্থ লেনদেনের কাজে ব্যবহার করতেন।

গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি সবাইকে এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। বিশেষ করে, অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনোভাবেই ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ওটিপি (OTP) বা ব্যাংক সংক্রান্ত গোপন তথ্য প্রদান না করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন