সম্প্রতি হামের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় ঢাকাসহ সারা দেশে চরম আইসিইউ সংকট দেখা দিয়েছে। নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের অভাবে প্রায় প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু ঘটছে। শুধুমাত্র একটি আইসিইউ শয্যা পাওয়ার জন্য হামে আক্রান্ত শিশুর অভিভাবকরা দ্বিগবিদ্বিগ হয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন। উদ্বেগজনক এ পরিস্থিতিতে ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন (ডিএমএনএফ) এক টুকরো আশার আলো জ্বেলে হতদরিদ্রদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। মানবতার দিশারী হয়ে ওঠা এ সংগঠনটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পথশিশুদের জন্য বিনামূল্যে আইসিইউ সেবা দেওয়া ঘোষণা দিয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জাতীয় প্রেসক্লাবে ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অনলাইনে বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের এ আইসিইউর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে গুরুতর অসুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য জরুরি নিবিড় চিকিৎসা নিশ্চিত করার একটি মানবিক ও জনস্বাস্থ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার সূচনা হলো। এ উদ্যোগ শুধুমাত্র আর্তমানবতার সেবায় স্থাপিত একটি দৃষ্টান্ত নয়, এটি হতে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের প্রকল্প ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ চিকিৎসার সূচনা।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর অনলাইনে যুক্ত থেকে এ পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সারাদেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার পর আইসিইউয়ের এ চরম সংকটের মুহূর্তে ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন বিনামূল্যে পথশিশুদের আইসিইউ সেবা দেওয়ার উদ্যোগ দেশ ও জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। এ ধরনের উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কারের দাবিদার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে বিশ্ব পথশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাবা-মা ও পরিবার পরিত্যক্ত নবজাতকদের সুরক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রম মানবিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত নিজ হাতে তিনজন পথ নবজাতক-ফালাক, আনাবিয়া ও মিনহাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্নেহময় পালক পরিবারের কোলে তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ নবজাতকদের টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দাবি তুলে ধরেন। এরমধ্যে রয়েছে- শরিয়াহভিত্তিক হিউম্যান মিল্ক স্টোরেজ সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন, সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে ‘নিউবর্ন হাব’ প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং পথনবজাতকদের দ্রুত ও নিরাপদ পুনর্বাসনের জন্য দত্তক প্রক্রিয়া সহজীকরণ। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মুশিউর রহমান, বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদা সুলতানা আসমা, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফজলুল হক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. হুমায়ুন কবীর মঞ্জু, দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এ কে এম সাখাওয়াত হোসেন, নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

