দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আবার সম্মাননায় ভূষিত হলেন বরেণ্য অভিনেত্রী ববিতা।
রাজধানীতে আয়োজিত ‘হুজ হু বাংলাদেশ-২০২৬’ সম্মাননা অনুষ্ঠানে শিল্প ও সংস্কৃতি বিভাগে সম্মানিত হয়েছেন বরেণ্য অভিনেত্রী ববিতা। ১৮ এপ্রিল বনানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান।
অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রহণের পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্মরণ করেন তার বাবাকে।
সম্মাননাপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমরা ভাইবোনরা যেন সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারি। চেষ্টা করেছি আমরা বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে। আজ জীবনের এই পর্যায়ে এসে এই সম্মাননা পেয়ে বাবার কথাই ভীষণ মনে পড়ছে। জীবনে বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছি। কিন্তু এই সম্মাননাটা একেবারেই আলাদা এ কারণে যে, ‘হুজ হু বাংলাদেশ’ সম্পর্কে আমার আব্বা জানতেন। আব্বার জানা সম্পর্কিত কোনো অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছি বিধায় এতটাই ভালো লাগছে যে, সত্যিই আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। ধন্যবাদ জানাই আয়োজকদের। ধন্যবাদ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইয়াসির খান চৌধুরীকে ধৈর্য ধরে এমন চমৎকার একটি আয়োজনে সময় দেওয়ার জন্য। আমি এই সম্মাননা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে উৎসর্গ করছি।’
প্রধান অতিথি ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, ‘এমন আয়োজনে এসে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগছে, কারণ এই আয়োজনে যার যার ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিরা, সত্যিকারের তারকারাই উপস্থিত হয়েছেন সম্মাননা গ্রহণ করতে। তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দিতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। আজ যারা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন, তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েই আমাদের জাতীয় গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সম্মাননা গুণিজনদের কর্মস্পৃহাকে আরো বাড়িয়ে দেবে এবং উন্নত সমাজ গঠনে অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে।’
অনুষ্ঠানে ববিতা ছাড়া কৃষি, শিক্ষা, শিল্পসাহিত্য, উদ্যোক্তা, সাংবাদিকতা, সমাজসেবাসহ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে আরো ১১ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, ববিতা কিছুদিন আগে একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী তিনি এখনো নতুন কোনো সিনেমায় কাজ করছেন না। তবে এখনো তিনি আশাবাদী তিনি ভালো কোনো গল্পে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে আবার চলচ্চিত্রে অভিনয়ে ফিরবেন।
উল্লেখ্য, ১৮৪৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যসহ সারা বিশ্বের অনুসরণীয় গুণিজনদের জীবনী প্রকাশ ও সম্মাননা প্রদান করে আসছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হুজ হু। বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে দুই বছর পরপর এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের বিশ্বমঞ্চে পরিচিত ও অনুপ্রাণিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

