ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো দেশের বাইরেও মুক্তি পেয়েছে। ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে প্রবাসী দর্শক টানছে রাক্ষস ও বনলতা এক্সপ্রেস। ইতালির রাজধানী রোমে গত সোমবার সিনেমা ব্রডওয়েতে প্রিমিয়ার হয়েছে রাক্ষস সিনেমার, যার মাধ্যমে সিনেমাটির ইউরোপীয় বাজারে আনুষ্ঠানিক প্রবেশ হলো।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোমে প্রথম দিনের প্রদর্শনীতে দর্শকদের সাড়া ছিল বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। এতে দেশের বাইরেও সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘রাক্ষস’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার বিপরীতে রয়েছেন টালিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা চ্যাটার্জি।
আজিম হারুন ও শাহরিন আক্তার সুমির প্রযোজনায় নির্মিত এ সিনেমায় রোমান্স ও সাসপেন্সের মিশেলে ভিন্নধর্মী এক গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যা বিভিন্ন শ্রেণির দর্শকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যেই নির্মিত।
এদিকে বাংলাদেশে মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহেও সিনেমাটি ভালো চলছে। শুরুতে মাল্টিপ্লেক্সে শো সীমিত থাকলেও দর্শক চাহিদা কমেনি। বিভিন্ন হলে এখনো দর্শক উপস্থিতি লক্ষণীয়। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে ৩০টির মতো সিঙ্গেল স্ক্রিনেও সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে, যেখানে প্রথম দিন ৪১ লাখ টাকার বেশি আয় করেছে সিনেমাটি। শোনা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে আরো ১০টি সিঙ্গেল স্ক্রিনে সিনেমাটি মুক্তি পাবে। পরিচালক আশা প্রকাশ করেছেন, সিঙ্গেল স্ক্রিনে সিনেমাটি যে ভালো সূচনা করেছে, তা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে গত ৩ এপ্রিল কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ৫২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। প্রথম সপ্তাহে সিনেমাটি কানাডার ১০, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮ এবং যুক্তরাজ্যের চারটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। সিনেমাটি সেখানে সাড়া ফেলেছে। প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে বনলতা এক্সপ্রেস যুক্তরাষ্ট্রের টপ চার্টের ২০ সিনেমার মধ্যে উঠে এসেছে।
সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো। এর সভাপতি মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ সজিব সামাজিকমাধ্যমে এ খবর শেয়ার করেছেন। তার পোস্ট থেকে জানা গেছে, সিনেমাটি উত্তর আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) মুক্তির প্রথম তিন দিনে এক লাখ ৫৪ হাজার ডলার আয় করেছে। এর আগে ‘হাওয়া’ যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির তিন দিনে এক লাখ ৫৯ হাজার ডলার আয় করেছিল। উত্তর আমেরিকায় অন্য যেকোনো বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের প্রথম তিন দিনের আয় ছিল ৬৫ হাজার ডলারের কম। এর আগে উত্তর আমেরিকায় তুফান দেড় লাখ, প্রিয়তমা এক লাখ ৩২ হাজার এবং দেবী এক লাখ ২৫ হাজার ডলার ‘লাইফটাইম গ্রস’ আয় করেছিল। হাওয়ার লাইফটাইম গ্রস আয় তিন লাখ ৫৮ হাজার ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, বনলতা এক্সপ্রেস এ আয় ছাড়িয়ে যেতে পারবে।
এর আগে তাণ্ডব কিংবা হাওয়া ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে খুব ভালো ব্যবসার খবর দিয়েছিল। হাওয়া দেখতে কলকাতায়ও দর্শকের ভিড় লক্ষ করা গেছে। বাংলাদেশর সিনেমার আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি হওয়ায় স্বস্তিতে প্রযোজক-নির্মাতারা। এতে ভালো সিনেমার লাভ-লোকসানের দুশ্চিন্তা অনেকটা কমে গেছে বলে জানান সিনেমার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

