বাঙালি সবসময় ভোজনরসিক

রোজিনা আক্তার

বাঙালি সবসময় ভোজনরসিক

বাঙালি সবসময় ভোজনরসিক। নিজেরা খেতে যেমন পছন্দ করে তেমনি অন্যদেরও খাওয়াতে ভালোবাসে। তাছাড়া মজার খাবার ছাড়া কি উৎসব জমে? বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখের দিন দুপুরের খাবার আয়োজন নানা স্বাদের খাবার দিয়ে সাজানো হয়েছে।

ইলিশ পোলাও

বিজ্ঞাপন

উপকরণ : পোলাওয়ের চাল ১ কেজি, ইলিশ মাছ ১৬ টুকরো, আদাবাটা ২ চা চামচ, রসুনবাটা ১ চা চামচ, টক দই ১ কাপ, দারুচিনি ৩ টুকরো, এলাচ ৫টি, পেঁয়াজবাটা ৪ কাপ, পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, পানি ৪ কাপ, কাঁচামরিচ ১০টি, চিনি ১ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো ও তেল আধা কাপ।

প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে দুটি বড় ইলিশ মাছের আঁশ ছাড়িয়ে ধুয়ে মাঝের অংশের টুকরোগুলো নিন। এবার মাছের টুকরোগুলোয় আদা, রসুন, লবণ ও দই মেখে ১৫ মিনিট ম্যারিনেট করে রাখুন। একটি পাত্রে তেল গরম করে দারুচিনি, এলাচ দিয়ে নেড়ে বাটা পেঁয়াজ দিয়ে মসলা কষান। মসলা ভালো করে কষানো হলে মাছ দিয়ে কম আঁচে ঢেকে রান্না করুন। মাঝে চিনি ও কাঁচামরিচ দিয়ে একবার মাছ উল্টে দিন। পানি শুকিয়ে তেল ওপর উঠলে নামিয়ে নিন। মাছ মসলা থেকে তুলে নিন।

অন্য পাত্রে তেল গরম করে পেঁয়াজকুচি সোনালি করে ভেজে বেরেস্তা করে নিন। বেরেস্তা তুলে নিয়ে চাল দিয়ে নাড়ুন। মাছের মসলা দিয়ে চাল কিছুক্ষণ ভেজে পানি ও লবণ দিয়ে ঢেকে দিন। পানি শুকিয়ে এলে মৃদু আঁচে ১৫ মিনিট রাখুন। চুলা থেকে নামান। একটি বড় পাত্রে পোলাওয়ের ওপর মাছ বিছিয়ে বাকি পোলাও দিয়ে মাছ ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। পরিবেশন পাত্রে ইলিশ পোলাও বেড়ে ওপরে পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

ইলিশ খিচুড়ি

উপকরণ : পোলাওয়ের চাল ১ কেজি, মুগডাল ২৫০ গ্রাম (মুগডালকে হালকা ভেজে নিতে হবে), ইলিশ ১২ টুকরো (হলুদ, মরিচ ও স্বাদমতো লবণ মাখিয়ে ভেজে রাখতে হবে), সরষের তেল পরিমাণমতো। দারুচিনি ৩ টুকরো, সবুজ এলাচ ৪টি, তেজপাতা ৩টি, পেঁয়াজকুচি ২ কাপ, হলুদগুঁড়া এক চা চামচ, মরিচগুঁড়া প্রয়োজনমতো, আদাবাটা এক টেবিল চামচ, রসুনবাটা এক টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ আস্ত আটটি, লবণ স্বাদমতো ও সয়াবিন তেল পরিমাণমতো।

প্রস্তুত প্রণালি : একটি হাঁড়িতে প্রথমে তেল দিয়ে দিন। তেল গরম হলে এলাচ, দারুচিনি ও তেজপাতা দিন। এরপর পেঁয়াজকুচি দিন। পেঁয়াজ বাদামি হয়ে এলে হলুদ-মরিচ গুঁড়া ও আদা-রসুনবাটা দিন। মসলা একটু নেড়ে নিন। এরপর আধা কাপ পানি দিয়ে মসলা ভালোভাবে কষিয়ে নিন। এরপর চাল-ডালের মিশ্রণ ও লবণ দিয়ে দিন। চাল ভালোভাবে ভাজা হয়ে এলে গরম পানি দিন। বুদবুদ উঠলে চুলার আঁচ মাঝামাঝি রেখে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন।

১০ মিনিট পর পানি শুঁকিয়ে এলে একটু নেড়ে অর্ধেক খিচুড়ি একটি বাটিতে তুলে রাখুন। এবার ভেজে রাখা মাছগুলো হাঁড়িতে দিয়ে দিন। এরপর তুলে রাখা খিচুড়ি মাছের ওপর ছড়িয়ে দিন। কাঁচামরিচ ছড়িয়ে দিন। এরপর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ১০ মিনিট দমে রাখুন। চুলা থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন ইলিশ খিচুড়ি।

সরষে ইলিশ

উপকরণ : ইলিশ মাছ ৮ টুকরো, পোস্তবাটা ১ টেবিল চামচ, সরষে ও কাঁচামরিচ বাটা ৩ চা চামচ, হলুদ আধা চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি সামান্য, চেরা কাঁচামরিচ প্রয়োজনমতো ও সরষের তেল প্রয়োজন মতো ।

প্রস্তুত প্রণালি : একটি পাত্রে পোস্তবাটা, সরষেবাটা, হলুদ, লবণ, সামান্য চিনি, চেরা কাঁচামরিচ ও সরষের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার কড়াইতে সরষের তেল গরম করুন। তেল গরম হলে লবণ-হলুদ মাখানো ইলিশ মাছ তেলে ছাড়ুন। সামান্য পানি দিয়ে গ্যাসের আঁচ কমিয়ে রাখুন। কাঁচামরিচ ও কাঁচা সরষের তেল ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

শুঁটকি ভর্তা

উপকরণ : প্রথমে লইট্টা শুঁটকি ছোট করে কাটা ২ কাপ, পেঁয়াজকুচি এক কাপ, রসুন কুচি আধা কাপ, জিরাগুঁড়া আধা চা চামচ, হলুদগুঁড়া এক চা চামচ, মরিচগুঁড়া এক চা চামচ, শুকনো মরিচ কুচি দুই চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো ও তেল ৩-৪ চা চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি : শুঁটকি মাছ গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে কাঁটা বেছে নিন। এবার প্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ ও রসুনকুচি সামান্য ভেজে বাকি মসলা দিয়ে কষিয়ে মাছে দিয়ে দিন। প্রয়োজনে সামান্য পানি দিন। অল্প আঁচে মাছ সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। ভালো করে নেড়ে রান্না করুন। ভর্তাটা শুকিয়ে তেল ছেড়ে এলে নামিয়ে নিন।

আলু-ডিম ভর্তা

উপকরণ : আলু ১টি (মাঝারি আকারের), ডিম ২টি, কাঁচামরিচ কুচি ১ চা চামচ, পেঁয়াজকুচি ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা-কুচি ১ চা চামচ, লবণ ও সরষের তেল পরিমাণমতো।

প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে আলু ও ডিম সেদ্ধ করে নিন। খোসা ছাড়িয়ে আলু ও ডিম আলাদাভাবে চটকে নিন। এবার পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা কুচি, লবণ এবং সরষের তেল দিয়ে ডিম ও আলু ভালোভাবে মেখে ভর্তা তৈরি করুন।

রসুন দিয়ে কাঁচামরিচের ভর্তা

উপকরণ : কাঁচামরিচ ১০টি, রসুন আধা কাপ, ধনেপাতা কুচি আধা কাপ ও লবণ পরিমাণমতো।

প্রস্তুত প্রণালি : রসুন ছিলে নিন এবং কাঁচামরিচের বোঁটা ছাড়িয়ে রাখুন। এবার তাওয়ায় কাঁচামরিচ ও রসুন ভালো করে টেলে নিন। এরপর সব উপকরণ একসঙ্গে বেটে নিন। তৈরি হয়ে গেল কাঁচামরিচ-রসুনের ভর্তা।

শুঁটকি-বেগুন ভর্তা

উপকরণ : ছুড়ি শুঁটকি ছোট করে কাটা এক কাপ, বেগুন বড় একটা, পেঁয়াজকুচি এক কাপ, রসুনকুচি আধা কাপ, জিরাগুঁড়া আধা চা চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা চামচ, মরিচগুঁড়া এক চা চামচ, শুকনো মরিচকুচি দুই চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো, তেল ৩-৪ চা চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি : বেগুন কেটে সামান্য হলুদ আর লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। শুঁটকি মাছ গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার প্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ ও রসুনকুচি সামান্য ভেজে বাকি মসলা দিয়ে কষিয়ে মাছে দিয়ে দিন। প্রয়োজনে সামান্য পানি দিন। অল্প আঁচে মাছ সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। এবার বেগুন ভর্তা দিয়ে দিন। ভালো করে নেড়ে রান্না করুন। ভর্তাটা শুকিয়ে তেল ছেড়ে এলে নামিয়ে নিন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...