বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন শেখ হাসিনার সময়কার অবৈধ নির্বাচনের বৈধ মেয়র হিসাবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছিল বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। জবাবে ইশরাক হোসেন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির বেঞ্চ তাকে মেয়র পদে নির্বাচিত ঘোষণা করেছিল। সে রায় অবৈধ হলে, অন্তর্বর্তী সরকারের সবকিছু অবৈধ ঘোষণা করতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এসব আলোচনা হয়।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিলের আলোচনায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এমন কি বিশেষ পরিস্থিতি হয়েছিল, যে বিশেষ পরিস্থিতিতে উত্তর সিটি করপোরেশন এজাজ আহমেদকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এমন কি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তারা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টকে অবমাননা করে আমাদের সহকর্মী মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নির্বাচন কমিশন থেকে গেজেট হয়েছিল। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে শপথ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। আমাতের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ সে সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন। কি বিশেষ পরিস্থিতিতে তাকে শপথ পড়ানো হয়নি?
পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আগের বক্তব্য দিতে গিয়ে আমার সম্পর্কে একটি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন, যেটা অসত্য। উনি (স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী) বক্তব্যে বলেছেন, আমাদের একজন সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন একটি দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। উনি (ইশরাক হোসেন) শেখ হাসিনার সময়কার অবৈধ নির্বাচনের বৈধ মেয়র হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, এ আন্দোলনটি ছিল ২০২৫ সালের মে মাসে। সে সময় আমি অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ ছিলাম না। আমি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে পদত্যাগ করেছিলাম। ফলে ওনার (প্রতিমন্ত্রী) অসত্য তথ্যটি সংশোধন করার অনুরোধ রইলো।
নাহিদ বলেন, এটা খুব বেশি দিন আগের ঘটনা নয়। ওই আন্দোলনের পরে.. ওনার (স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী) মনে থাকার কথা, কারণ উনি যে ট্রফির কথা বলেছিলেন, ওই আন্দোলনের পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে সংসদ নেতার কাছে ট্রফিটি দিয়ে এসেছিলেন।
পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীকে ফ্লোর দিতে স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, যদি অবৈধ নির্বাচনের অবৈধ দাবিদার আমি হয়ে থাকতাম.. তাহলে ওই সময় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির বেঞ্চে আমার রায়টি বহাল রাখা হয়েছিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

