বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ‘প্রধান অফিস ব্যয়ের’ লাগাম টানতে চায় এনবিআর

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ‘প্রধান অফিস ব্যয়ের’ লাগাম টানতে চায় এনবিআর

বাংলাদেশে যেসব বিদেশী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেসব প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মূল বা প্রধান অফিসের ব্যয় হিসাবে প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে আসছে। প্রধান অফিসের এ ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ব্যয়ের লাগাম টানার জন্য বছরওয়ারী একটা সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাজস্ব ভবনে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের (ফিকি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান খরচের লাগাম টানার এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রতি বছরই হেড অফিসের নামে অনেক টাকা ব্যয় হয়। অতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে প্রতিষ্ঠানের মুনাফার পরিমাণও কম দেখানো হচ্ছে।

তবে এনবিআরের এ ধরনের উদ্যোগের বিরোধিতা করে ফিকির পরামর্শক ও করবিদ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, এ ধরনের ব্যয়ের যথার্থতা প্রমাণের জন্য দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (ডিটিএ), ট্রান্সফার প্রাইসিং রেগুলেশন রয়েছে। এখন আইন থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের সীমা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়াটা যুক্তিযুক্ত হবে না। সীমা বেঁধে দেওয়ার কোন উদ্যোগ নেওয়া হলে ফিকির সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, একটি অফিস যখন স্থাপিত হয় তখন তার প্রধান অফিসের ব্যয় বেশি হতে পারে। এটি ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু প্রতি বছরই প্রধান অফিসের ব্যয় বাড়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। আমরা প্রধান অফিসের ব্যয়ের একটা সীমা বেঁধে দিব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফিকির পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া আমার দেশকে বলেন, প্রধান অফিসের ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে অপরাশেনাল, মনিটরিং, লিগ্যাল, আইটি খাতে ব্যয়। এখন এসব ব্যয়ের যদি সীমা বেঁধে দেওয়া হয় তাহলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ফিকির বাজেট প্রস্তাবনায় করপোরেট করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে করার প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, আমাদের প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, শ্রীলংকার তুলনায় এ কর হার অনেক বেশি। এটি না কমালে বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আসার ক্ষেত্রে উৎসাহী হবে না।

এই প্রস্তাবের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের রাজস্ব আহরণে চাপ রয়েছে। করপোরেট কর হার কমানো হলে সরকারের যে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে, তা অন্য কোন খাত থেকে পূরণ করা সম্ভব হবে না। এক সময়ে করপোরেট কর হার ৫০ শতাংশ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি এখন সাড়ে ২৭ শতাংশে এসেছে। তারপরও ব্যাংক, টেলিকম, ট্যোবাকোর মতো কিছু কোম্পানির উচ্চ হারে কর রয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ফিকির প্রেসিডেন্ট রুপালী চৌধুরী বলেন, কোভিড-১৯ এর পর থেকে ব্যবসায় মন্দা তৈরি হয়। এরপর শুরু হয় ইউক্রেন যুদ্ধ। এর প্রভাবে বাংলাদেশে যেসব বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের অধিকাংশই নেগেটিভ ট্রেন্ডে রয়েছে। এমনকি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নেগেটিভ গ্রোথ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বিনিয়োগ কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণ সম্ভব হচ্ছে না। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান সম্ভব হবে না। আমরা নিজেরা যদি টিকতে না পারি তাহলে আমরা কিভাবে অন্যদের বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবো?

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের কথা রয়েছে। আমরা ভয়ে আছি। এক্ষেত্রে আমরা এনবিআরের কাছ থেকে যথেষ্ঠ উদ্যোগ আশা করছি।

ফিকির বাজেট প্রস্তাবনায় রাজস্ব কর-কাঠামো পুনর্গঠন, ডিজিটালাইজেশন ব্যবস্থা জোরদার, ব্যবসা পদ্ধতি সহজীকরণসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন