ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ‘শ্যাডো কেবিনেট’ নামের এই মন্ত্রিসভা প্রস্তুতে কাজ করছে দলটির একটি বিশেষজ্ঞ দল। দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সিনিয়র নেতা এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক এই মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এটি চূড়ান্ত করতে আরো এক-দুই মাস লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে প্রস্তাবিত ছায়া মন্ত্রিসভা নামের একটি তালিকা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটি শতভাগ ভুয়া বলে জানিয়েছেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, ‘শ্যাডো কেবিনেট’ নামের ছায়া মন্ত্রিসভার কোনো তালিকা এখনো প্রস্তুত করা হয়নি। এ নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি টিম কাজ করছে। তারা তাদের আইডিয়া প্রস্তাব করবে। সেটি অনুমোদন হলেই তালিকা চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেওয়া হবে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে প্রথম ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলেন। তিনি লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করব ইনশাআল্লাহ।’
পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি আরেকটি পোস্টে শিশির মনির লেখেন, ‘রাজনীতিতে নতুনত্ব আনুন। সরকারি দল মন্ত্রিসভা গঠন করুক। বিরোধীদল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করুক। সংসদের ভেতরে-বাইরে তুমুল বিতর্ক হোক। তবেই সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।’
এই পোস্টের কিছু সময় পরই এক পোস্টে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতির কথা জানান।
তিনি পোস্টে লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’
সূত্রমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। তবে ওই নির্বাচনে জামায়াতের ৬৮ জনসহ মোট
৭৭ জন সংসদ সদস্য নিয়ে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে জোটটি। তাই পরবর্তী পরিস্থিতিতে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার জন্য ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করেছে জামায়াত জোট। সে অনুযায়ী কাজ চালাচ্ছেন তারা।
সূত্র মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’হলো বিরোধী দল গঠিত একটি বিকল্প কাঠামো, যা ক্ষমতাসীন সরকারের সমান্তরালে কাজ করে। এই মন্ত্রিসভার কাজ হলো সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব করা। এ ছাড়া এটি সরকারকে নিয়মিত জবাবদিহির মধ্যে রাখে। এ ধরনের মন্ত্রিসভা সাধারণত যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে দেখা যায়।
জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জামায়াতের কথিত ছায়া মন্ত্রিসভায় ২৮টি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমপিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মীর আহমেদ বিন কাসেম এমপিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। এতে অ্যাডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মনিরকে করা হয়েছে আইনমন্ত্রী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে করা হয়েছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী।
এছাড়া মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নেসা সিদ্দিকাকে মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী এবং মারদিয়া মমতাজকে করা হয় প্রতিমন্ত্রী। অর্থাৎ দলের এমপি এবং অন্য নেতাদের এই মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। তবে এতে এনসিপি বা অন্য শরিকদের কারও নাম দেখা যায়নি। এই তালিকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনাও চলছে। যদিও এই তালিকার সঙ্গে জামায়াতের প্রক্রিয়াধীন শ্যাডো মন্ত্রিসভার কোনো সম্পর্ক নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এমবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

