জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়কে বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পালাতক আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার এক প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতাকে হত্যা সংক্রান্ত এই মামলার রায় বিচার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়েছে এবং তারা এ রায়কে স্বাগত জানান। তবে মামলার ২৫ জন আসামির মধ্যে মাত্র দুজন গ্রেপ্তার রয়েছে, বাকিরা এখনও পলাতক—যা উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, পালাতক আসামীদের গ্রেপ্তারে সরকারের জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন। মামলার রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মাওলানা আতাউর রহমান আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় বিচার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ মাত্র। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে শুনানিসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে রায় বাস্তবায়ন করা হয়। তাই সাজাপ্রাপ্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি কার্যকরে সরকারকে আরও আন্তরিক ও সতর্ক হতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তিনি।
রায়ের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে হুকুমদাতাদের তুলনায় কার্যকরীদের শাস্তি বেশি হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “আমি হুকুমের গোলামমাত্র”—যা ঘটনাটির গুরুত্ব তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনরত নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যদের পক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করা কঠিন। তাই এ ধরনের ঘটনায় নির্দেশদাতাদেরই মূলত দায়ী করা উচিত। তবে আইনের প্রতি আস্থা রেখে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব অপরাধী তাদের প্রাপ্য শাস্তি পাবে এবং ভবিষ্যতে কেউ জনতার ওপর গুলি চালানোর সাহস পাবে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

