কর্মশালায় এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি

অস্ত্র ও পেশি শক্তি দিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখা যায় না

স্টাফ রিপোর্টার

অস্ত্র ও পেশি শক্তি দিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখা যায় না

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বেশি ত্যাগ আর কোনো দল স্বীকার করেনি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ১১ জন নেতাকে বিচারিক হত্যা করা হয়েছে।

শুধুমাত্র বাংলাদেশে ইনসাফ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অসংখ্য নেতাকর্মী রাজপথে জীবন ও রক্ত দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হজ্জ যাত্রীদের গাইডলাইন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফাঁসির মঞ্চ থেকে আজ তিনি জনতার মঞ্চে উল্লেখ করে বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলনে শাহাদাতের তামান্না লালন করেই আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। তিনি আরও বলেন, অস্ত্র ও পেশি শক্তি দিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখা যায় না, যাবে না। ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দিয়ে যারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছে তারা ছাত্র-জনতার রক্তের সাথে বেঈমানী করলে জাতি তাদের ক্ষমা করবে না।

ছাত্র-জনতার স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ অক্ষরে-অক্ষরে পালন করতে হবে। জুলাই সনদকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, সুযোগ দেওয়া হবে না।

এসময় তিনি হজ্জ যাত্রীদের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, আপনার আল্লাহর পবিত্র ঘরে গিয়ে দোয়া করবেন যাতে বাংলাদেশে দ্বীন কায়েমের মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়। তিনি বলেন, ইসলামী শাসন ব্যবস্থা ব্যতিত অন্য যত তন্ত্রমন্ত্র আছে সবগুলোই স্বৈরতন্ত্র। ফলে ক্ষমতাসীন দল ও ব্যক্তি স্বৈরাচার রূপে আবির্ভূত হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য আল্লাহ হজ্জ ফরজ করেছেন। হজ্জ যেমনি ফরজ একইভাবে জমিনে দ্বীন কায়েম করাও ফরজ। হজ্জের নির্দেশ যেভাবে কুরআন এবং হাদিসে রয়েছে একইভাবে দ্বীন কায়েমের নির্দেশও কুরআন এবং হাদিসে রয়েছে। মুমিন ব্যক্তি কোনো ফরজ বিধান বাদ দিতে পারে না।

ঈমান আনার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ, রোজা, যাকাত, হজ্জের মতো অন্য সকল ফরজ বিধান সমান ভাবে গুরুত্ব দিয়ে পালন করতে হবে। কোন অবস্থাতেই ফরজ বিধান এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। আরও বলেন, এমপি বা মন্ত্রী হওয়া সফলতা নয়। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভ করাই হচ্ছে সফলতা। জান্নাত লাভের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আল্লাহর বিধান যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আল্লাহর বিধান পরিপালনে জান ও মাল কুরবানি করতে হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি'র সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি'র পরিচালনায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ডক্টর মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলারস মুফতি আলী হাসান ওসামা, পল্টন বটতলা মসজিদের খতিব মাওলানা জাকারিয়া নুর। এছাড়াও হজ্জ যাত্রীদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন হিলফুল ফুজুল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা এমদাদুল্লাহ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমীর হামজা ও শাহ মুহাম্মদ ফয়সাল। এছাড়াও কর্মশালায় হজ্জ গাইডলাইন প্রেজেন্টেশন করেন ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল হক তানভীর।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর যথাক্রমে আব্দুস সবুর ফকির, এডভোকেট ডক্টর হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডক্টর আব্দুল মান্নান এবং মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে এডভোকেট এস. এম কামাল উদ্দিন, আব্দুস সালাম, মাওলানা মোশাররফ হোসেন, ডক্টর মোবারক হোসেন, শাহীন আহমেদ খান, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে জননেতা মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে যারা নতুন করে ফ্যাসিবাদের রূপে আবির্ভূত হতে চায় তারা দেশ ও জাতির দুশমন। সরকারি দলের ওপর স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা ভর করেছে বলেই গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহন করেনি।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহন না করে বিএনপি গণরায় পদদলিত করে জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা হতে দেওয়া যায় না, দেওয়া হবে না। তিনি উপস্থিত হজ্জ যাত্রীদের কাছে দেশ ও জাতির জন্য দোয়া কামনা করে বলেন, আল্লাহর ঘরের মেহমান হিসেবে আল্লাহর ঘরে গিয়ে দোয়া করবেন আল্লাহ যেন বাংলাদেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে কবুল করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন