জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর গম্ভীরমুখে কোনো কথা না বলে মাঠ ছাড়েন বিসিবির সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার বিদায়ের সময় মাঠে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা বারবার তার মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও তিনি কোনো কথা বলেননি। অনেকটাই বাকরুদ্ধ হয়ে মাঠ ছেড়েছেন বুলবুল। তবে এনএসসির ওই সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সদ্য সাবেক সহসভাপতি ফারুক আহমেদ। তখনও তিনি জানতেন না ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বোর্ড। ফারুক বিরোধী পক্ষে থাকা সবাইকে একরকম শূলে চড়ান তিনি।
সেই সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির ফারুক আহমেদ বলেন, ‘একটা কথা আমি বলতে চাই সবার সামনে। এই নির্বাচন হওয়ার আগে কে কত দৌড়-ঝাঁপ করেছেন, কে উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে ভোর ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছেন-এগুলো আমি জানি। বনিবনা হয়নি বা কী হয়েছে, তা আমি জানি না।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘ষড়যন্ত্র যারা করেছে, তারা আগের বোর্ডে ছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ছিলেন, তারপরও আছেন। সুতরাং যারা আমাকে চেনেন, এসব কাজের সঙ্গে আমি কখনো জড়িত নই। আমি যা করি, সামনের দিক দিয়ে করি। আমার নিজের ওপর বিশ্বাস আছে। যেহেতু আমি নীতিগতভাবে খুবই একজন স্বচ্ছ মানুষ।’
দায়িত্ব হারানোর পর তাকে ফোন দেওয়া হলে তার উত্তর পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিসিবির সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি।
এনএসসির ২০১৮ সালের আইনের ২৮ ধারা মোতাবেক ভেঙে দেওয়া হয়েছে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পরিষদ। ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি আইসিসিকেও অবহিত করেছে এনএসসি। এর আগে বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটি গঠনের সময় থেকেই স্পষ্ট ছিল, যেকোনো সময় এনএসসি ভেঙে দিতে পারে বিসিবির পরিচালনা পরিষদ। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার দুদিনের মাথায় ভেঙে দেওয়া হলো পরিচালনা পরিষদ। ভেঙে দেওয়া হবে-এমন কোনো আভাস অবশ্য আগে থেকে পাওয়া যায়নি। হুট করে সংবাদ সম্মেলন ডেকে গতকাল ভেঙে দেওয়া হয় বোর্ড।
এর আগে বিসিবির সাত পরিচালক ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ফলে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সময় বিসিবির পরিচালনা পরিষদে ছিলেন ১৮ পরিচালক। এনএসসির সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্ত জানানোর পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনএসসি গতকাল বিসিবির পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। ১১ সদস্যের এই অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন তামিম ইকবাল। এছাড়া আছেন ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, মির্জা সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, আতাহার আলী খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম।
এই ১০ জনের মধ্যে বিসিবির পরিচালক হিসেবে আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি ও তানজিল চৌধুরীর। তামিম ইকবাল ছাড়াও সাবেক দুই ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও আতাহার আলী খানও আছেন।
বাকি পরিচালকদের মধ্যে ফাহিম সিনহা এক্মি ল্যাবরেটরিজের পরিচালক, মির্জা সালমান ইস্পাহানি ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, তানজিল চৌধুরী প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও রফিকুল ইসলাম বাবু ইন্দিরা রোড ক্রীড়াচক্রের কর্মকর্তা।
মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ ও ইসরাফিল খসরু যথাক্রমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদের ছেলে। আর ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী। অর্থাৎ, অ্যাডহক কমিটির ১১ জনের মধ্যে তিনজন হলেন বিএনপির মন্ত্রী পুত্র এবং একজন বিএনপির মন্ত্রীর স্ত্রী। ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে এর আগে কখনো তাদের নাম কোথাও আলোচনায় ছিল না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

