তপ্ত গরমে শরিফুল শো

স্পোর্টস রিপোর্টার

তপ্ত গরমে শরিফুল শো

ওয়ানডে ম্যাচে সাধারণত তিন স্পেলে শেষ হয় বোলারদের বোলিং। সেখানে শরিফুল বোলিং করলেন চার স্পেলে! প্রতিটিই ছোট ছোট স্পেল। খানিকটা বিরতি দিয়ে বোলিং করলেও পারফরম্যান্সে খুব একটা হেরফের হয়নি। বরং তপ্ত গরমের সঙ্গে তুমুল পাল্লা দিয়ে নিউজিল্যান্ডকে আটকানোর সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করেছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। ম্যাচশেষে তার বোলিং ফিগার : ১০-২-২৭-২! অর্থাৎ ১০ ওভার বোলিং করে ২ মেইডেন দিয়ে ২৭ রান খরচায় তার শিকার ২ উইকেট। ১৬ ম্যাচ পর এভাবে ফিরেই নিজেকে মেলে ধরেছেন শরিফুল, সঙ্গে বার্তাটা দিয়ে রেখেছেন সুযোগ পেলে তিনিও জানেন পারফর্ম করতে।

অথচ এই ম্যাচে খেলারই কথা ছিল না শরিফুল ইসলামের। এমনকি টস হওয়ার আগ মুহূর্তেও তার খেলার কথা ছিল না। অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ যখন টসে দাঁড়ান, ঠিক সে সময় কোচ ফিল সিমন্স এসে বদলে দেন টিম শিট! বদলে যাওয়া টিম শিটে মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় একাদশে ছিল শরিফুল ইসলামের নাম। মিরাজ যখন টস করতে আসেন, তখন ইনজুরিতে পড়ায় মোস্তাফিজুর রহমান বাদ পড়েন একাদশ থেকে। আর সুযোগটা পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করতেও করেননি দেরি।

বিজ্ঞাপন

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসা শরিফুল খরচ করেন মোটে ১ রান। ইনিংসের চতুর্থ ও নিজের দ্বিতীয় ওভারেও তার খরচ ছিল ১ রান। অর্থাৎ, প্রথম স্পেলে তার নামের পাশে খরচ দুই রান। এমন দারুণ শুরুর পর তাকে এক ওভার বিশ্রামে রাখেন অধিনায়ক মিরাজ। সম্ভবত বাড়তি গরমের কারণে তাকে এক ওভার বিশ্রামে রেখে বোলিংয়ে ফেরান।

দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসেই দলকে এনে দেন প্রথম সাফল্য। ওপেনার নিক কেলি ফেরেন বোল্ড হয়ে। যদিও এই ওভারে হজম করেন এক বাউন্ডারি। তাতে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায়, ৩-০-৮-১! নিউজিল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে এমন বোলিং ফিগার নিঃসন্দেহে দারুণ। সারা বছর পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে দারুণ খেলা কিউইদের এভাবে আটকে রাখা তৈরি করে প্রশংসা। উইকেট পেয়ে উজ্জীবিত শরিফুল নিজের চতুর্থ ওভারে ছিলেন আরো দারুণ। খরচ করেননি একটি রানও। পঞ্চম ওভারে খরচ করেন ১ রান।

তাতে দ্বিতীয় স্পেলে এক উইকেট শিকার করে শরিফুলের খরচ ছিল ৭ রান ও এক মেইডেন। ততক্ষণে ৫ ওভার বোলিং করা শরিফুল বাউন্ডারি হজম করেছেন মাত্র একবার। প্রথম দুই স্পেলে দারুণ করা শরিফুল ফের বোলিংয়ে আসেন ৩২তম ওভারে। এই ওভারে তার খরচ ছিল ৭ রান। আর ৩৪তম ওভারে দেন ৩ রান। অর্থাৎ, এক ওভারে বাজে বোলিং করলে, আরেক ওভারে দারুণভাবে পুষিয়ে দিচ্ছিলেন এই বাঁহাতি পেসার। ৩৪তম ওভারে দারুণ বোলিংয়ের ধারাবাহিকতায় ৩৬তম ওভারে করেন মেইডেন। সঙ্গে নেন আরো এক উইকেট। তাতে এবার তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায়, ৮-২-১৯-২! অর্থাৎ, ৮ ওভার বোলিং করে ২ মেইডেনের সঙ্গে শিকার দুই উইকেট আর খরচ ১৯ রান!

তৃতীয় স্পেলে দারুণ বোলিং করা শরিফুল নিজের শেষ স্পেল করেন ৪৪ ও ৪৮তম ওভারে। ডেথ ওভারে করা এই ওভারে তার খরচ ছিল ৮ রান। তবে শিকার করতে পারেননি কোনো উইকেট। ডেথ ওভারে কোনো উইকেট না নিলেও বল হাতে দারুণ ছিলেন। ডট দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের। যার সুফল বেশ ভালোভাবেই পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পুরো ইনিংসে তপ্ত গরমের মধ্যে ১০ ওভার বল করা শরিফুল হজম করেছেন মোটে দুই বাউন্ডারি। আর ডট বল করেছেন ৪২টি। অর্থাৎ, তার করা ৬০ বলের মধ্যে ১৮টি থেকে রান নিতে পেরেছিলেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা। তপ্ত গরমে এমন দারুণ বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেবেনÑএমন ভাবনাটাই হয়তো কারো মধ্যে ছিল না। সেটাই করে দেখিয়েছেন শরিফুল।

তার মতো নিজেদের কোটার পুরোটা করেছেন বাংলাদেশ দলের বাকি দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। খানিকটা খরুচে ছিলেন তারা দুজনে। তবে তাদেরকে খুব সহজে খেলতে পারেননি নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা। তাসকিন ১০ ওভারে খরচ করেন ৫০ রান, আর নাহিদ রানা ১০ ওভারে দেন ৬৫ রান। তাসকিনের ২ উইকেটের বিপরীতে নাহিদের শিকার ছিল ১ উইকেট। তাদের এমন পারফরম্যান্স বলে দেয়, তপ্ত গরমে ভীত হননি পেসাররা বরং মানিয়ে নিয়ে নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন মাঠে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...