ব্যাংকার্স ক্লাব ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬

টানটান লড়াই শেষে ফাইনালে এনআরবিসি ও সিটি ব্যাংক

স্পোর্টস রিপোর্টার

টানটান লড়াই শেষে ফাইনালে এনআরবিসি ও সিটি ব্যাংক

ডন আরএমসি ব্যাংকার্স ক্লাব ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল দুটি ম্যাচ ছিল ভিন্ন স্বাদের—একটি ছিল শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরা লড়াই, আর অন্যটি ছিল একতরফা আধিপত্যের গল্প। দুই ম্যাচেই দলগুলোর কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বড় প্রভাব দেখা গেছে। সেমিফাইনালের লড়াইয়ে এনআরবিসি ২ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংককে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সিটি ব্যাংক ৫ উইকেটে হারায় ইস্টার্ন ব্যাংককে।

বিজ্ঞাপন

প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় এনআরবিসি ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক। রাজশাহীর পদ্মা মাঠে টসে জিতে এনআরবিসি ব্যাংক ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরবর্তীতে সঠিক প্রমাণিত হয়। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে প্রাইম ব্যাংক খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো এবং বড় কোনো জুটি গড়ে তুলতে না পারায় তারা নির্ধারিত ১৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১১১ রানের একটি মাঝারি সংগ্রহ দাঁড় করায়।

এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এনআরবিসি ব্যাংকও খুব সহজে ম্যাচ জিততে পারেনি। শুরু থেকেই উইকেট পড়তে থাকায় তাদের ব্যাটিং লাইনআপ চাপে পড়ে যায়। তবে ইকবালের ৪৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস এবং হেলালের দ্রুত ২৮ রান দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। ম্যাচটি শেষ দিকে গিয়ে চরম উত্তেজনায় রূপ নেয়, যখন জয়-পরাজয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় খুবই সূক্ষ্ম অবস্থানে। শেষ পর্যন্ত ১৪.৪ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান তুলে ২ উইকেটের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে এনআরবিসি ব্যাংক। বল হাতে আবিরের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, যার জন্য তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার পান।

অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সিটি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকের ম্যাচটি ছিল তুলনামূলকভাবে একপেশে। মেঘনা মাঠে টসে জিতে সিটি ব্যাংকও ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেয়। ইস্টার্ন ব্যাংক ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পায়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় তারা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় এবং ১৫ ওভারে ১১১ রানেই অলআউট হয়ে যায়।

এই ম্যাচের আসল পার্থক্য গড়ে দেন রাজু, যিনি অসাধারণ বোলিং করে একাই ৫ উইকেট তুলে নেন। তার এই পারফরম্যান্স ইস্টার্ন ব্যাংকের ইনিংসকে ধ্বংস করে দেয়। পরে ব্যাট হাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ২৯ রান করে দলের জয়ে অবদান রাখেন। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিটি ব্যাংক অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করে। আলমের ধীরস্থির ৪৪ রান এবং দীপের ঝড়ো অপরাজিত ৩৫ রান ম্যাচকে খুব সহজ করে দেয়। মাত্র ১২.৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে সিটি ব্যাংক।

গ্র্যান্ড ফাইনালে মুখোমুখি হবে এনআরবিসি ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। একটি দল এসেছে কঠিন পরীক্ষা পেরিয়ে, অন্যটি এসেছে আত্মবিশ্বাসী দাপট দেখিয়ে—ফলে ফাইনালে এক দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ দেখার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন