রিয়াল-পিএসজির জয়, জুভেন্টাসের বিদায়

স্পোর্টস ডেস্ক

রিয়াল-পিএসজির জয়, জুভেন্টাসের বিদায়

চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরে রিয়াল মাদ্রিদকে ভালোই পরীক্ষায় ফেলেছিল বেনফিকা। যে কারণে সরাসরি শেষ ষোলোর টিকিট কাটতে পারেনি মাদ্রিদের দলটি। তবে পরীক্ষার শেষ ধাপে রিয়ালের সামনে টিকতে পারল না ইতালিয়ান দলটি। প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে শেষ ষোলোয় উঠল রিয়াল। প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে ১-০ গোলে জিতেছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের সবচেয়ে সফল দলটি।

বিজ্ঞাপন

চোটের কারণে ম্যাচে ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাকে ছাড়াই ম্যাচ শুরু করে রিয়াল। ম্যাচের ১৪ মিনিটে এগিয়ে যায় বেনফিকা। গোলকিপার থিবো কর্তোয়া আত্মঘাতী গোল এড়ালেও ফিরতি বলে সুযোগ বুঝে রাফা সিলভা দ্রুত শট নিয়ে বল জালে জড়ান। বেনফিকার গোলের মাত্র দুই মিনিট পর রিয়ালকে সমতায় ফেরান অরলিয়ে চুয়েমেনি। বক্সের বাইরে থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করেন চুয়েমেনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার প্রথম গোল।

এরপর একের পর এক গোল মিসের মহড়া চলতে থাকে। ভিনিসিয়ুস ম্যাজিক দেখান শেষ বাঁশি বাজার ১০ মিনিট আগে। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। সেটিই হয়ে ওঠে জয়সূচক গোল। গোলের পর প্রথম লেগের মতো একইভাবে নেচে উদযাপন করেন ভিনিসিয়ুস। শেষ পাঁচ ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের এটি ষষ্ঠ গোল।

শেষ ষোলোতে রিয়ালের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ম্যানচেস্টার সিটি অথবা স্পোর্টিং লিসবন।

আরেক ম্যাচে পিএসজি ঘরের মাঠে মোনাকোর সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ ব্যবধানে জয় পেয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। প্রথম লেগে ০-২ পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে জিতেছিল পিএসজি। ফিরতি লেগে প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল মোনাকো। ৫৮ মিনিটে মামাদু কুলিবালি লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। দুই মিনিট পর মারকিনিওস সমতা ফেরান। ছয় মিনিট পর খভিচা কাভারাত্সখেলিয়া পিএসজিকে এগিয়ে দেন। যোগ করা সময়ে শেষ গোল করে মোনাকো।

শেষ ষোলোতে পিএসজির সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ বার্সেলোনা অথবা চেলসি।

অন্য ম্যাচে অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আতালান্তা। ঘরের মাঠে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়েছে ইতালিয়ান ক্লাবটি। প্রথম লেগে ০-২ পিছিয়ে ছিল আতালান্তা। ফিরতি লেগে প্রথমার্ধেই জিয়ানলুকা স্কামাক্কা ও দাভিদে জাপাকোস্তার গোলে এগিয়ে যায় তারা। ৫৭ মিনিটে মারিও পাসালিচ হেডে এগিয়ে দেন দলকে, যদিও করিম আদেইয়েমি গোল করে ডর্টমুন্ডকে ম্যাচে ফেরান। অতিরিক্ত সময়েই নির্ধারিত হয় ফল। ডিফেন্ডার রেমি বেনসাবাইনির ফাউলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করেন লাজার সামারজিচ। এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে শেষ ষোলোতে অন্তত একটি ইতালিয়ান ক্লাব থাকার ধারাবাহিকতা বজায় রইল।

শেষ ষোলোতে আতালান্তার প্রতিপক্ষ আর্সেনাল অথবা বায়ার্ন মিউনিখ।

দলগুলোর জয়ের রাতে হেরে গেছে জুভেন্টাস। প্রথম লেগে তুরস্ক ৫-২ গোলে হারার পর ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছিল জুভেন্টাস। ফিরতি লেগে ৯০ মিনিটে ৩-০ গোলে এগিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় তারা। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ভিক্টর ওসিমেন ও বারিশ ইলমাজর গোলে জয় নিশ্চিত করে গালাতাসারে। দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৫ ব্যবধানে শেষ ষোলোয় ওঠে তুর্কি ক্লাবটি।

পরের রাউন্ডে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ লিভারপুল অথবা টটেনহ্যাম হটস্পার।

প্লে-অফ পর্ব থেকে শেষ ষোলোয় ওঠল যারা:
আতালান্তা, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, বায়ার লেভারকুজেন, বোদো/গ্লিমট, নিউক্যাসল, গালাতাসারাই, পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...