মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ

দুবাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছে ইস্তানবুল, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্টের চেষ্টা

আমার দেশ অনলাইন

দুবাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছে ইস্তানবুল, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্টের চেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলা, প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। এই যুদ্ধ ঝুঁকির মুখে ফেলেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই বৈশ্বিক পুঁজি কেন্দ্রগুলোকে। এ অবস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিনিয়োগকারী ও সংস্থাগুলোকে নিজ দেশে আকৃষ্ট করার উপায় খুঁজছে তুরস্ক ।

মিডল ইস্ট আই-কে একটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বলেছেন, আঙ্কারা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য কর ছাড় এবং অন্যান্য সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা ইতোমধ্যে ইস্তানবুল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারে (আইএফসি) প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক কেন্দ্র এবং আবুধাবি ও দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে টার্গেট করে হামলা চালায় ইরান। এর ফলে সেখানকার কিছু সংস্থা তাদের ব্যবসাবাণিজ্য তুরস্কে সরিয়ে আনতে পারে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলোর পাশাপাশি প্রযুক্তি স্টার্টআপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা এবং ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ইস্তানবুল হচ্ছে তুরস্কের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখানে রয়েছে আইএফসি। আছে ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের কর সুবিধা দিয়েছে সরকার। যার মধ্যে রয়েছে করমুক্ত রপ্তানি আয়সহ সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলোতে আনুষঙ্গিক চার্জ থেকে অব্যাহতি।

এছাড়া রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ কর্মীদের জন্য বেতন কর প্রণোদনা, যেখানে বিদেশি কর্মী কত বছর ধরে কাজ করছেন তার ওপর ভিত্তি করে তাদের প্রকৃত বেতনের ৬০ বা ৮০ শতাংশ আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, তুরস্ক সরকার এই কর প্রণোদনাগুলোর কিছু অংশ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য আরো ব্যাপকভাবে প্রসারিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানিগুলোকে বিদেশি কেনা পণ্য নিজে বিক্রি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিক্রির পর অর্জিত আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে দেখা গেছে, বিনিয়োগের জন্য তুরস্কের প্রতি বিদেশি সংস্থাগুলোর হয়তো আগ্রহ বাড়ছে । এই মাসের শুরুতে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত একটি বৈঠকে ইস্তানবুলে বিশ্বব্যাপী ৪০ জন সিইও-কে আপ্যায়ন করেছিলেন। অংশগ্রহণ করা কোম্পানিগুলোর অর্থনৈতিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার।

এদিকে ইস্তানবুল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারের প্রধান নির্বাহী আহমেত ইহসান এরদেম এই মাসের শুরুতে রয়টার্সকে বলেছিলেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলো ইরান যুদ্ধের কারণে আংশিকভাবে আইএফসিতে স্থানান্তর বা তুরস্কে তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে এবং সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী।

তবে একজন আন্তর্জাতিক ব্যাংকার মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, তুরস্কের আদালতকে কেউ বিশ্বাস করে না। কারণ তুরস্কের স্টিকি মুদ্রাস্ফীতি রয়েছে, যা এ বছর ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং বাণিজ্য ঘাটতি আরো বাড়বে। এছাড়া দেশটির আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। কারণ তারাও দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারের মতো আলাদা বাণিজ্যিক আইনের অধীনে কাজ করে। এর ফলে বিদেশিদের কাছে এটি অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি তিক্ত অভিজ্ঞতারও জন্ম দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবীণ তুর্কি কর্মকর্তা বলেছেন, আঙ্কারা যদি ডেটা সেন্টার এবং এআই কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ করতে চায় তাহলে এই উদ্বেগ দূর করতে আইনি উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন