যুদ্ধ বন্ধে আজ শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিনিধিদল আলোচনার জন্য রওনা হয়েছে এবং ইরানিরা প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন। তবে বৈঠেকের আগে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যা আসন্ন আলোচনাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
মঙ্গলবার ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু চুক্তি হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে সংঘাত শুরু হয়।
চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর উভয় পক্ষই এর শর্তাবলি সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। মতবিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন এবং চলমান আক্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না।
শুক্রবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, এই মতপার্থক্য আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই তা ভেস্তে দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিকভাবে সম্মত হওয়া দুটি পদক্ষেপ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি: লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা শুরুর আগে ইরানের আটকে রাখা সম্পদ মুক্ত করা।’
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘আলোচনা শুরুর আগে এ দুটি বিষয় অবশ্যই পূরণ করতে হবে।’
শুক্রবার তার পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছেছে এবং ওয়াশিংটন তেহরানের ‘পূর্বশর্তগুলো’ মেনে নিলেই কেবল আলোচনা শুরু হবে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করে নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছেন, ‘আমরা জাহাজগুলোতে এযাবৎকালের সেরা অস্ত্র বোঝাই করছি, যা আমাদের আগের অস্ত্রের চেয়েও উন্নত।’
তিনি বলেন, ‘আর যদি কোনো চুক্তি না হয়, আমরা এগুলো ব্যবহার করব এবং খুব কার্যকরভাবে ব্যবহার করব।’
এরপর ট্রুথ সোশ্যালে করা দুটি পোস্টে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, তার প্রশাসন আলোচনায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, ‘আজ তারা শুধু আলোচনার জন্যই বেঁচে আছে!’
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের মিথ্যাচার, ফাঁস করলেন মার্কিন সেনারা
যুক্তরাষ্ট্রের দুই তৃতীয়াংশ নাগরিক ইরান যুদ্ধের অবসান চান