কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপির টাকায় নিজ বাড়ির পুকুরে গাইডওয়াল নির্মাণ করেছেন সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনির হোসেন চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে ।
বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মনিরুল হোসেন চৌধুরী তার নিজ বাড়ির পুকুরে তার ভাই জাকির চৌধুরীর নামে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপি থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন । এছাড়া ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ১ লাখ টাকা দিয়ে আরো একটি রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি সরকারি অর্থায়নে নিজ বাড়ির পুকুরে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ করেছেন । সরকারি অর্থের অপব্যবহার করেছেন । এগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতেও চেয়ারম্যানরা তাদের নিজ বাড়ির পুকুর ও বাড়ির আঙিনা সরকারি অর্থে পাকা করবেন।
সাহেবাবাদ গ্রামের জাকির হোসেন জানান, সরকারি টাকায় নিজ বাড়ির পুকুরে রিটার্নিং ওয়াল করেছেন মনির চৌধুরী । তখন মানুষ মুখ খুলে কিছু বলতে পারেনি । উনি আওয়ামী লীগের বড় নেতা । সরকারি অর্থের অপব্যবহার করলেও ওনার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মনির হোসেন চৌধুরীকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি ।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান দৈনিক আমার দেশকে বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় এসেছি এক বছর হয়েছে। এই কাজগুলো দুই বছর আগের । সরকারি অর্থায়নে কীভাবে নিজ বাড়ির পুকুরে রিটার্নিং ওয়াল করেছেন, আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি ।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

