নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-এর ভূগর্ভস্থ ফিডার লাইনের ডেড ক্যাবল চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এই মূল্যবান সম্পদ চুরির অভিযোগ উঠেছে। অথচ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ মাস ধরে একটি চক্র ভেকু দিয়ে মাটি খুঁড়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই ডেড ক্যাবল তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কখনো গভীর রাতে, আবার কখনো দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে চলছে এই চুরি। কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আরিফ মন্ডল এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভোলাইল থেকে দেওয়ার বাড়ি পর্যন্ত তার নেতৃত্বে বিএনপি নেতা মিলন, জুয়েল, জব্বার, ইমরান, চোরা হাসান, শান্ত জলিল রাতের আঁধারে মূল্যবান এই ক্যাবল চুরি করে বিক্রি করে আসছে। বিসিক শিল্প নগরীতে যুবদল নেতা আল আমিনের নেতৃত্বে চুরি হচ্ছে ক্যাবল।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জ-পঞ্চবটি দ্বিতীয় সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হলে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির সময় ক্যাবলগুলো দৃশ্যমান হয়। পরে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতা ভেকু ব্যবহার করে ওই ডেড ক্যাবল উত্তোলন শুরু করে। শুরুতে এই ক্যাবল বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে চক্রের ভেতরে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
পরবর্তীতে কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডলের নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেট স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নির্বিঘ্নে প্রতিদিন রাতেই ক্যাবল তুলে বিক্রি করছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় রহস্য আরো ঘনীভূত হয়েছে।
ফতুল্লা সাবস্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী এএইচএম তারেক তুষার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে ক্যাবল চুরির সত্যতা পাওয়া গেছে। কিন্তু চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের লোকজন ঘটনাস্থলে ছবি তুলতে গেলে চক্রের সদস্যরা তাদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে হামলার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ায় তারা সেখান থেকে সরে আসে। ডেড ক্যাবল কাটতে গিয়ে সচল বিদ্যুৎ লাইনেরও ক্ষতি করা হচ্ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুল আলম বলেন, আমি সম্প্রতি থানায় যোগ দিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি সম্পত্তি এভাবে দিনের পর দিন লুট হলেও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

