কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ ঝিনাইদহের পাঁচজন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের বাসযাত্রী পিন্টু ইসলামের স্ত্রী লাইজু খাতুন (২৬) এবং তার দুই শিশুকন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩), একই উপজেলার ভালাইপুর গ্রামের ইমামুল ইসলামের স্ত্রী সোনালী বেগম (৪০) এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১০ নং হরিশংকরপুর ইউনিয়নের পানামী গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে জোহাদ হোসেন (২৪)।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় পিন্টু ইসলাম স্ত্রী লাইজু ও দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে মহেশপুর থেকে মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে রওনা হয়েছিলেন। পথে রাত ১১টার দিকে বিদেশফেরত শ্যালককে বিমানবন্দরে আনতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে নেমে পড়েন পিন্টু। ফলে রোববার ভোর ৩টা ১০ মিনিটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণে বাঁচলেও প্রাণ হারান তার স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যা।
মহেশপুরের অন্য গৃহবধূ ভালাইপুর গ্রামের ইমামুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সোনালি বেগম ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নোয়াখালীতে বড় ছেলের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় ইমামুল আহত হয়ে প্রাণে বাঁচলেও নিহত হয়েছেন তার স্ত্রী সোনালী।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নের পানামী গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে জোহাদ হোসেনও একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তিনি মামুন পরিবহনের ওই বাসে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, রোববার ভোর আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটের দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইন অতিক্রম করার সময় দ্রুতগামী ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ফলে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে।
এদিকে, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার চারজন, সদরের একজনসহ মোট পাঁচজন নিহতের ঘটনায় জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে মাতমে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

