কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের একটি বহুতল ভবনের পার্কিং জোনে একটি ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো ব্র্যান্ডের গাড়ির সন্ধান মিলেছে। বিআরটিএ’র কাগজ অনুযায়ী গাড়িটির মালিক ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক আওয়ামী সংসদ সদস্য নিহত আনোয়ারুল আজীম আনার। কালো কালারের গাড়িটার নম্বর ‘ঢাকা মেট্রো-ঘ ১২-৬০৬০’। রাতে গাড়িটির মালিকানা নিশ্চিত হলেও সকালে ওসি বলেছেন, এটির মালিকানা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন তারা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মোশাররফ হোসেন আমার দেশকে বলেন, ‘গাড়ি নিয়ে কীসের এত কৌতূহল, গাড়ি তো গাড়ির জায়গায় আছে। সাফিনা টাওয়ারের প্রাডো গাড়ির বিষয়ে বিল্ডিংয়ের মালিক কিছুই জানেন না। তিনি ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে আজকে আমাদের জানাবেন।
গাড়ির কাগজপত্র পুলিশ উদ্ধার করেছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা রং ইনফরমেশন। কাগজ থাকলে গাড়ি নিয়ে আসতে পারতাম।
জানা গেছে, সোমবার (৯ জুন) রাত ১২টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের ৮ তলা সাফিনা টাওয়ারের গ্যারেজে ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়িটি পাওয়া যায়। এ সময় গাড়ি থেকে কাগজপত্র, সংসদ সদস্য ও সিআইপি স্টিকার উদ্ধার করে পুলিশ। কালো কালারের গাড়িটার নম্বর ‘ঢাকা মেট্রো-ঘ ১২-৬০৬০’।
সে সময় (রাতে) উপস্থিত সাংবাদিকদের কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই স্বপন বলেছিলেন, গাড়ির খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। গাড়ি থেকে কাগজপত্র, সংসদ সদস্য ও সিআইপি স্টিকার উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিহত আনোয়ারুল আজীম আনারের। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নেয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনের এক গার্ড বলেন, জেনুইন লিফ কোম্পানি নামের একটা সিগারেট কোম্পানি ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ভাড়া নিয়েছে। তারাই গাড়িটি রাখার ব্যবস্থা করেছেন। এই গাড়িটি কয়েক মাস ধরে এখানে রাখা হয়েছে। গাড়িটা বাইরে বের করা হয় না সেভাবে। তবে মাঝে-মধ্যে স্টার্ট দেয়া হয়। চালক শান্ত গাড়িটি স্টার্ট দেন।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য আজ সকালে সাফিনা টাওয়ারে গিয়ে মালিক, জেনুইন লিফ টোব্যাকোর সিইও জাহিদ ও জিএম বেলালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের
অফিসে গিয়ে কেয়ারটেকার ও দারোয়ানকে ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি।
‘গাড়ি থেকে পুলিশ কোনো কাগজপত্র উদ্ধার করেনি’- ওসির এই দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান আমার দেশকে জানান, ছুটির দিনেও আমরা বিআরটিএতে যোগাযোগ করছি গাড়ির মালিকানা কার সেটি জানার জন্য। আর এই গাড়ি নিয়ে কোনো ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিস হয়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

