দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত গঙ্গাচড়ার মানুষের দুর্দশার সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর বাগডহরা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫টি পরিবারের মাঝে সরকারি জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক এই সহায়তা কিছুটা স্বস্তি দিলেও বসবাসের উপযোগী ঘর মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ঢেউটিন না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের মাঝে শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়।
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সজিবুল করীম ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তাসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। প্রাথমিকভাবে ৩৫টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তবে পর্যাপ্ত ঢেউটিন বর্তমানে মজুত নেই। ঢেউটিন বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত বিতরণ করা হবে।
এর আগে গত শুক্রবার গভীর রাতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে শতাধিক পরিবারের বসতঘরের টিনের চাল উড়ে যায় এবং অনেক ঘর শিলাবৃষ্টির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে পড়ে। অনেক ঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়। রাতের মধ্যেই অসংখ্য পরিবার ঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাদ্যসহায়তা কিছুটা স্বস্তি দিলেও তাদের সবচেয়ে বড় সংকট এখন বসবাসের উপযোগী ঘর।
ক্ষতিগ্রস্ত সুজা মিয়া বলেন, খাবার পেয়েছি, এজন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু ঘরের চাল ভেঙে গেছে। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার ঢেউটিন। রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘরের টিনগুলো শিলার আঘাতে একেবারে ছিদ্র হয়ে গেছে। এই খাবার সাময়িকভাবে সাহায্য করবে, কিন্তু ঘর ঠিক না করলে আমাদের কষ্ট কমবে না। সরকার যদি দ্রুত ঢেউটিন দেয়, তাহলে আমরা আবার ঘর তুলতে পারব।
সুমন মিয়া বলেন, এক রাতের ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে। আমাদের একটাই দাবি, দ্রুত ঢেউটিন দিয়ে ঘর তৈরি করার ব্যবস্থা করা হোক। আসেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। আমাদের আগে ঘরের টিন দরকার, না হলে বাঁচা কঠিন হয়ে যাবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল হক বুলেট জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। জরুরি খাদ্য সহায়তা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। তবে যাদের ঘরবাড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য ঢেউটিনসহ প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

