ওসমানীনগরে সংবাদ সম্মেলন

ইউএনওর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের

উপজেলা প্রতিনিধি, ওসমানীনগর (সিলেট)

ইউএনওর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় নির্বাচনি সিসিটিভি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পে দাখিল ও স্বাক্ষর না করায় উপজেলা সদর ইউনিয়নের এক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে হুমকি দেওয়া এবং পরবর্তীতে তাকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে ওসমানীনগরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য অপসারিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কবির আহমদ।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঝলক পাল বরখাস্ত হলে স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ সময় প্যানেল চেয়ারম্যান সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এক সদস্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করলে তিনি হাইকোর্টের রিট পিটিশন ১৫৫৬২/২৫ দায়ের করেন। এতে তার চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকার আদেশ কার্যকর হয়। পরবর্তীতে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

কবির আহমদ অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওসমানীনগর উপজেলার ৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশন ৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। এ বরাদ্দের অর্থে কোনো কাজ না করে পুরো প্রকল্প গোপন রেখে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের করের ১ শতাংশ তহবিলের আওতায় তাকে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকার প্রকল্প প্রস্তাব দাখিলে গত ১৮ ডিসেম্বর মৌখিক নির্দেশনা দেন ইউএনও মুনমুন নাহার আশা।

তিনি আরও জানান, একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে রাজস্ব অনুপাতে প্রায় ৩৮ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অধিকাংশ চেয়ারম্যান এতে স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর দিতে রাজি না হলেও জেলা প্রশাসকের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কবির আহমদ দাবি করেন, তিনি এ প্রকল্পে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইউএনও তার সচিবের মাধ্যমে হুমকি দেন। পরে বিভিন্ন চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার পর তিনি ইউএনওর ব্যক্তিগত রোষানলে পড়েন বলেও অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও গত ২ মার্চ ইউএনও মুনমুন নাহার আশা তাকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ করেন। এর প্রেক্ষিতে ৩ এপ্রিল (সরকারি ছুটির দিনে) জেলা প্রশাসক তাকে অপসারণ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদারকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন।

এ ঘটনাকে প্রতিহিংসামূলক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, একজন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন আচরণ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিষয়টি আদালত অবমাননার শামিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কবির আহমদ আরও বলেন, আমি যদি এ দুর্নীতিতে সায় দিতাম, তাহলে অল্প সময়েই কোটিপতি চেয়ারম্যান হয়ে যেতাম। তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকায় ইউএনওর একক ক্ষমতায় বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ নেওয়া হলেও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করে ভুয়া বিল উত্তোলন করা হচ্ছে।

দুর্নীতির এ অভিযোগ তদন্তে প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...