মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বর্ণিল আয়োজনে শুক্রবার সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে মনিপুরি মৈথৈ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘লাই হারাওবা’। উপজেলার আদমপুরে তেতইগাঁওস্থ মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ উৎসব শেষ হয়। এর আগে গত বুধবার এই অনুষ্ঠান শুরু হয়।
মণিপুরি লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ‘লাই হারাওবা’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘দেবতাদের আনন্দনৃত্য’। এটি মূলত মণিপুরি নৃত্যের আদি উৎস হিসেবে স্বীকৃত। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল পৃথিবী সৃষ্টির প্রাচীন মিথ বা উপাখ্যান।
উৎসবের প্রাণ ছিলেন প্রাচীন ধর্মের পুরোহিত ও পুরোহিতানী, যারা ‘মাইবা’ ও ‘মাইবী’ নামে পরিচিত। জলাশয় থেকে দেবতাকে আবাহন করার মাধ্যমে (লাই ঈকৌবা) উৎসবের শুরু হয়। এরপর পেনার সুরের তালে তালে বসতি স্থাপন থেকে শুরু করে মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর বিভিন্ন পর্যায় নৃত্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়
তিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘লাই হারাওবা’ উৎসব আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আলাপকালে লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি বাংলাদেশের সদস্যসচিব ওইমান লানথই এবং স্টিয়ারিং কমিটি আহ্বায়ক ইবুংহাল সিনহার (শ্যামল) সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘লাই হারাওবা’ হলো মণিপুরি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রাচীন ও তাৎপর্যপূর্ণ উৎসব। এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘দেবতাদের আনন্দ উৎসব’। এটি সৃষ্টি, দিব্য সত্তা, বিশ্বতত্ত্ব এবং সম্প্রীতির এক গভীর উদ্যাপন, যা প্রকাশিত হয় জটিল ও অনন্য ধারাবাহিক আচার-অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী সংগীত, মন্ত্রপাঠ (লাইপৌ) এবং ‘মাইবি জাগোই’র মতো স্বতন্ত্র নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে। এটি মূলত, সনামহী ধর্মের ঐতিহ্যগত দেবতাদের উৎসাহিত করার জন্য উদ্যাপন করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

