জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, আমরা পার্লামেন্টে এসে শুনি, দেশে তেলের কোনো অভাব নেই। পার্লামেন্টে তেল থাকলে কী হবে? আমরা পেট্রোল পাম্পে তেল পাই না। আমার গাড়ি রাত ৩টা-৪টা পর্যন্ত পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকে পাঁচ-ছয় লিটার তেল নেওয়ার জন্য। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এসব অভিযোগ করেন আব্দুল্লাহ আল আমিন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য বলেন, এলাকার জনগণ পরিবর্তনের আশায় আমাকে নির্বাচিত করেছে। গণঅভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্ক্ষা ধারণ করা তরুণ প্রজন্ম আমাকে নির্বাচিত করেছে। তাদের পক্ষ হয়ে আমি কিছু কথা বলতে চাই।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর তারা ভেবেছিলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। কিন্তু সংস্কারসহ যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য ছিল, সেসব প্রশ্নে এখন সরকারি দলের অনীহা দেখা যাচ্ছে। আমরা শুধু দলীয়করণ নয়, বিসিবিতে ‘বাপের দোয়াকরণ’ দেখছি। আমরা ব্যাংকগুলোতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ দেখছি। বাংলাদেশ ব্যাংকে দলীয় ব্যবসায়ী নিয়োগ করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা-১৮ আসনের সরকারদলীয় সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ২০১০ খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর থেকে বাংলাদেশের মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন শুরু হয়। সে জুলুম নির্যাতন রুখে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের নেতাকে (তারেক রহমান) লন্ডনে যেতে হয়েছিল। সে নেতা বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর তিনি যখন ফিরে আসেন, তখনই বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পেরেছিল, বাংলাদেশে নতুন কিছু হতে যাচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, আই হ্যাভ আ প্ল্যান। এর বাস্তবতা আমরা দেখতে পাচ্ছি, এখন তিনি কাজ শুরু করেছেন।
এসএম জাহাঙ্গীর তার নির্বাচনি আসনের নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১২টি ওয়ার্ডে (২০১৭ সালে সিটি করপোরেশনে যুক্ত) কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিগত সরকার শুধু বাহবা পাওয়ার জন্য ওয়ার্ডগুলো সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি আবদুল্লাহপুর বেড়িবাঁধকে ৩০০ ফিট রাস্তার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব করেন। এতে এলাকার যানজট অনেক কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নেত্রকোনা-২ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, সংসদে জাতীয় সংগীতের প্রতি বিরোধী দলের অবহেলা কষ্ট দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে ভাষণের সময় ওয়াকআউট করা তাদের দ্বিচারিতা।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন, একটি রাষ্ট্রের সম্মানিত রাষ্ট্রপতিকে দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হতে হয় এবং সত্যিকারের একটি নীতির অনুসারী হতে হয়। তার রাজনৈতিক জীবনে আমি সে বিষয়টি দেখতে পাইনি। তিনি কিছুদিন ফ্যাসিস্টের পক্ষে নেতৃত্ব দেন, কিছুদিন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সহাবস্থানে, আবার বিভিন্ন মতাবলম্বী হওয়াতে তাকে ধন্যবাদ দিতে না পারায় আমি দুঃখিত।
নীলফামারী-২ আসনে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর আল ফারুক আবদুল লতিফ বলেন, যে রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিবাদী শাসনের যাবতীয় অন্যায়, গুম-খুন মেনে নিয়ে, রাষ্ট্রের প্রধান হয়েও সব অন্যায়ের প্রশ্নে মুখে যিনি কুলুপ এঁটেছিলেন, সে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সদস্যরা এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ দুর্ভোগের বিষয়ে স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আলোচনায় আরো অংশ নেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের আইনুল হক, হবিগঞ্জ-২ আসনের আবু মনসুর সাখাওয়াত হোসেন, শরীয়তপুর-২ আসনের শফিকুর রহমান (কিরণ), কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মাজহারুল ইসলাম, কুমিল্লা-১০ আসনের মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, জামালপুর-৫ আসনের শাহ মো. ওয়ারেস আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের খালেদ হোসেন, গাজীপুর-১ আসনের মুজিবুর রহমান, শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

