গত সপ্তাহে ‘নো কিংস’ স্লোগান দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, প্রায় ৮০ লাখ মার্কিন নাগরিক দেশটির বিভিন্ন ছোট-বড় শহরে সেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।
কংগ্রেস ও সিনেটে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের কট্টর ইসরাইল এবং অন্ধ ট্রাম্প-সমর্থক ‘জায়নবাদী ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান’ অংশ ছাড়া অন্য সদস্যরাও মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্রমবর্ধমান পাগলামিতে অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেছেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ প্রতিদিন যে শুধু পরস্পরবিরোধী এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্যই দিয়ে যাচ্ছেন, তা-ই নয়, তারা এই হামলাকে কোনো রাখঢাক ছাড়া ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধের বয়ানে পেশ করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিদিনকার টুইটে ‘গড’ যেন অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ মন্ত্রণালয়ের এতদিনের সেক্যুলার নীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে সেখানে খ্রিষ্টীয় রীতিতে নিয়মিত আনুষ্ঠানিক প্রার্থনার আয়োজন করে ‘গডের’ কাছে, শত্রুপক্ষ—অর্থাৎ ইরানকে ধ্বংস করার আবেদন জানাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সমন্বয়ে গঠিত মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ‘জায়নবাদী খ্রিষ্টান’ রাজনীতিবিদ ট্রয়কা এখন ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিকে তাদের মতো করে জায়নিস্ট ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী পরিচালিত করছেন।
তাছাড়া ইরানের বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রসহ সব বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতার দেশটিকে প্রস্তর যুগে নিয়ে যাওয়ার হুমকির ফলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হতে পারে, সেই আশঙ্কাও দেশটির অল্পসংখ্যক বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিক বিলম্বে হলেও বিবেচনায় নিচ্ছেন। ১০০ মার্কিন আইনবিশেষজ্ঞ এক সাম্প্রতিক চিঠিতে ওয়াশিংটনকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে সতর্কও করেছেন। (US experts say American strikes on Iran may amount to war crimes, Reuters, April 3, 2026, https://www.reuters.com)
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিদিন সত্য-মিথ্যার তোয়াক্কা না করে যা বলছেন, তাতে জর্জ অরওয়েলের কাল্পনিক ‘ডিস্টোপিয়ান’ রাষ্ট্রের ‘মিথ্যাই সত্য’ ধারণাকেও অতিক্রম করেছে। অরওয়েল প্রকৃতপক্ষে কমিউনিস্ট রাষ্ট্র ধারণাকে উপহাস করে ১৯৪৯ সালে তার পৃথিবীবিখ্যাত বই ‘১৯৮৪’ লিখেছিলেন। সে সময় লেখকের কল্পনায়ও আসেনি যে, গণতান্ত্রিক পশ্চিমে তথাকথিত ‘মুক্ত বিশ্বের’ নেতা হিসেবে একদিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো এমন একজন ধর্মান্ধ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তি আবির্ভূত হবেন, যার কাছে আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের কোনো মূল্য নেই।
গত রোববার তিনি ইরানের নেতাদের উদ্দেশে যে ভাষায় টুইট করেছেন, তার মধ্যে শুধু তীব্র ইসলামবিদ্বেষ প্রকাশ পায়নি, তা এতটাই অশ্লীল যে বিবিসি এবং সিএনএনকে সেন্সর করতে হয়েছে। আমাদের একেবারেই আশ্চর্য হওয়া উচিত হবে না যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিনিদের বিপুল ভোট পেয়ে ২০২৪ সালে গণতান্ত্রিক পন্থাতেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং স্কলাররা কয়েক দশক ধরেই দেশটির জনগণের এক উল্লেখযোগ্য অংশের ধর্মান্ধতা এবং জায়নবাদী চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি বিভিন্ন লেখায় উল্লেখপূর্বক সবাইকে সতর্ক করে এসেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার বিজয় মার্কিন জনগণের ইসরাইল ও ভারতের মতো ক্রমেই এক অসুস্থ কট্টরপন্থার দিকে ধাবিত হওয়ার প্রমাণ দিয়েছে।
বর্তমান শতাব্দীতে পৃথিবীর যে তিনটি দেশে ইসলামবিদ্বেষ অতি ব্যাপক মাত্রায় এবং দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করেছে, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। এ নিয়ে সম্ভবত বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই যে, ইসরাইল ও ভারত বর্তমান বিশ্বে কট্টর মুসলমানবিদ্বেষী প্রধান দুই দেশ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমনÑঅস্ট্রিয়া, জার্মানি, ফিনল্যান্ড এবং ফ্রান্সেও ব্যাপক মাত্রায় ইসলামবিদ্বেষ রয়েছে। উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ সবচেয়ে তীব্র বলেই ধারণা করা হয়। ১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে সফল ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে পরিকল্পিতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে মগজধোলাই করা হয়েছে। সে কারণেই তেহরানের এক স্কুলে বোমা বর্ষণ করে শত শত নিরপরাধ স্কুলবালিকাকে মার্কিন সামরিক বাহিনী হত্যা করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেই নির্মমতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়নি। বর্ণবাদী, শ্বেতাঙ্গ মার্কিনিদের কাছে ইরানের জনগণ নিকৃষ্টতর মানব। তাই, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলি-মার্কিন আইনবিরুদ্ধ হামলা নিয়ে মার্কিন জনগণ কিংবা দেশটির আইনপ্রণেতাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। গত সপ্তাহে ট্রাম্পবিরোধী যে ব্যাপক ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে, তার ভিন্ন কারণ রয়েছে।
প্রথম কারণ হলো, ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ওপর এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আর দ্বিতীয়ত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ বিষয়েও ক্রমেই স্বৈরাচারী এবং হঠকারী হয়ে ওঠায় সাধারণ জনগণ গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার নিয়ে শঙ্কিত হয়ে উঠছে। অবশ্য এটি ঠিক যে, প্রেসিডেন্ট বুশ গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মিথ্যা কাহিনি ফেরি করে যেমনভাবে ইরাক আক্রমণের পক্ষে জনমত তৈরি করতে পেরেছিলেন, সেটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারেননি। সর্বশেষ জনমত জরিপেও দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান যুদ্ধের বিপক্ষে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে পড়েছে। ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ইরান আক্রমণের স্বপ্নপূরণ করতে গিয়ে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের প্রায় সব পশ্চিমা চিরাচরিত মিত্রের সমর্থন হারিয়েছেন। ‘নো কিংস’ স্লোগান দিয়ে গত সপ্তাহে মার্কিনিদের রাজপথে নেমে আসা অদূর ভবিষ্যতে ষাটের দশকের ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী প্রবল বিক্ষোভের মতো সর্বজনীন চেহারা নেয় কি নাÑসেটি দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভের প্রত্যাশা
বিলম্বে হলেও কিছু মার্কিন নাগরিকের মধ্যে বিবেক যে জাগ্রত হচ্ছে, এটি বিশ্বশান্তির জন্য একটা ইতিবাচক ঘটনা। তবে মুসলমানদের দুরবস্থার অবসান হতে গেলে তাদের নিজেদের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। মুসলিম বিশ্বের সংস্কারের জন্য ওআইসিভুক্ত দেশ, বিশেষ করে শেখ ও রাজতন্ত্রসহ যেসব ইসলামিক রাষ্ট্রে নানা পদ্ধতিতে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বলবৎ রয়েছে, সেসব দেশের জনগণের যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে ‘নো কিংস’ স্লোগান নিয়ে রাজপথে নেমে আসা উচিত। ২০১১ সালে তিউনিসিয়ায় আরব বসন্ত আমাদের উম্মাহর রেনেসাঁর বিষয়ে যথেষ্ট আশান্বিত করে তুলেছিল।
দেশটির একনায়ক বেন আলি ২৪ বছর স্বৈরশাসনের পর স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লবে দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পালাতে বাধ্য হলে তিউনিসিয়ার জনগণ কিছুদিনের জন্য গণতন্ত্রের স্বাদও পেয়েছিল। তিউনিসিয়ার পর মিসরেও স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। আমরা ভেবেছিলাম এবার মুসলিম বিশ্বের মুক্তি আসন্ন। কিন্তু সেই সুসময় বড় ক্ষণস্থায়ী ছিল। তিউনিসিয়া এবং মিসর আগের মতো ইসরাইল ও মার্কিন সমর্থিত স্বৈরশাসনে ফিরে গেছে। ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সুদান অন্তহীন যুদ্ধবিগ্রহে পরনির্ভর, ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনচেতা কিং ফয়সলের সৌদি আরব ইসরাইলের অনুরাগী এমবিএসের সৌদি আরবে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে তথাকথিত ‘আব্রাহাম একর্ডে’ স্বাক্ষর করে আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান জায়নবাদী বিশ্বব্যবস্থার কাছে নতিস্বীকার করেছে। ইসরাইল এখন আরব এবং মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলোকে অস্থিতিশীল করে রাখার কাজে আমিরাতকে ট্রয়ের ঘোড়ার মতো ব্যবহার করে চলেছে।
প্রথমে গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার সময় এবং এখন ইরানের বিরুদ্ধে অন্যায় হামলার প্রতিক্রিয়ায় আরব শাসকদের মেরুদণ্ডহীন চরিত্র সারা বিশ্বের কাছে উন্মোচিত হয়েছে। এই শাসকদের অধিকাংশ নির্লজ্জভাবে তেল আবিব এবং ওয়াশিংটনের পদলেহন করে চলেছে। জিসিসিভুক্ত দেশগুলো ইরানের পাল্টা প্রতিরোধ যুদ্ধে তাদের দেশে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটিসহ অন্যান্য সামরিক এবং বেসামরিক ‘অ্যাসেটে’ পাল্টা হামলার কঠোর নিন্দা করলেও একমাত্র ওমান ছাড়া অন্য কোনো আরব দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বেআইনি হামলার বিরুদ্ধে কোনো বিবৃতি দেওয়ার সাহস এ পর্যন্ত দেখাতে পারেনি।
এই শাসকশ্রেণি শুধু নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক আগেই নিজেদের বিবেক এবং রাষ্ট্রের স্বাধীনতা বিভিন্ন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে বন্ধক দিয়ে রেখেছে। অতএব, রাজপথের বিপ্লব ছাড়া জায়নিস্ট শৃঙ্খল থেকে এসব মুসলিম রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের কোনো সম্ভাবনা নেই। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আরবের জনগণ হাজার বছরের শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বের কারণে এতখানি বিভক্ত হয়ে পড়েছে যে, ইরানের ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে তাদের পক্ষে কোনো বৃহত্তর মুক্তির আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মতো প্রবল পরাক্রান্ত সামরিক বাহিনীকে পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতা ইরানের একাকী মোকাবিলা করার বিরল সাহসিকতা হয়তো বিশ্বের বাকি মুসলমানদের খানিকটা হলেও অনুপ্রাণিত করবে।
বাংলাদেশে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ
আমাদের জুলাই বিপ্লবও এক অর্থে ‘নো কিংস’ চেতনাকে ধারণ করেই সফল হয়েছিল। শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবকে ‘ড্যামিগড’ বানিয়ে পনেরো বছরে পরিবারতন্ত্রের যে ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে কায়েম করেছিলেন, তার সঙ্গে আরবের শেখ কিংবা রাজতন্ত্রের কোনো ব্যবহারিক তফাত ছিল না। সব রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের মালিক ছিলেন এক ব্যক্তি। তার ইচ্ছাই ছিল আইন। শেখ হাসিনা গোপালি রাজতন্ত্রে সিলমোহর দেওয়ার লক্ষ্যে তার ছেলে ও মেয়েকে দেশের পরবর্তী শাসক হিসেবে জনগণের সামনে ক্রমেই নিয়ে আসছিলেন। শেখ পরিবারের সেই অলিখিত রাজতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করেই আমাদের কিশোর এবং তরুণরা সেদিন স্লোগান দিয়েছিল, ‘দেশটা কারো বাপের না’।
ভুয়া গণতন্ত্রের লেবাসে বাংলাদেশে আর কখনো শেখতন্ত্রের মতো কোনো ছদ্মবেশী রাজতন্ত্র যাতে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, সে কারণেই ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রসংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সবাই উপলব্ধি করেছিলেন। উপরিউক্ত জনআকাঙ্ক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ও বিরোধী দলÑনির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দল এবং শক্তির জুলাই সনদের অপরিহার্যতা অনুধাবন করা অবশ্যক। সরকারি দলের কিছু সদস্যের গণভোটকে তুচ্ছ করে বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতা জুলাই সনদ সম্পর্কে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় সন্দেহের সৃষ্টি করছে। স্মরণ করিয়ে দেওয়া অনাবশ্যক যে, বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফাই হলো রাষ্ট্রসংস্কার।
সংসদে সনদ নিয়ে যতই আইনের কূটকচালি, তর্কবিতর্ক, ওয়াকআউট চলুক না কেন, মূল কথা হলো, কোনো ব্যক্তি কিংবা পরিবারের ইচ্ছায় নয়, রাষ্ট্র পরিচালিত হতে হবে একমাত্র জনগণের ইচ্ছানুসারে এবং সেই ইচ্ছার প্রকাশ ঘটবে শুধু গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুযায়ী। সেটি কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে, সম্মিলিতভাবে তার পন্থা উদ্ভাবনের জন্য জাতীয় সংসদের সব সদস্যের কাছে আহ্বান জানাই। আমরা যেন স্মরণে রাখি যে, মার্কিনিরা সবে ‘নো কিংস’ স্লোগান নিয়ে রাজপথে নেমেছে। আর বাংলাদেশের অদমনীয় তরুণরা তাদের রক্তের বিনিময়ে এক ভুয়া রানিকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রভুর দেশে পাঠিয়ে ইতোমধ্যে এক মহান ইতিহাস সৃষ্টি করে রেখেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

