ক্ষমতা বনাম জনগণ : ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

সরদার ফরিদ আহমদ

ক্ষমতা বনাম জনগণ : ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

ইতিহাসের একটি নির্মম সত্য আছে। শাসকরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেন না। আর যখন তারা শিক্ষা নেন না, তখন ইতিহাস তাদের শিক্ষা দেয়। কখনো কঠোরভাবে, কখনো রক্তের বিনিময়ে। বাংলাদেশ আজ ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। জুলাই বিপ্লব হলো। জুলাই সনদ হলো। এরপর সেই সনদের বৈধতা নিশ্চিত করতে গণভোট হলো। জনগণ ভোট দিলেন। ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বললেন। অথচ এখন সেই গণভোটের ভিত্তি-অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে গণভোট কেন? জনগণের রায় কি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা? জনগণের মতামতের কি কোনো মূল্য নেই? জনগণ কি ব্রাত্য? প্রজা?

গণতন্ত্রে জনগণই শেষ কথা। কিন্তু যখন জনগণের রায়কে পাশ কাটানো হয়, তখন গণতন্ত্রের ভিত্তি কেঁপে ওঠে। ইতিহাস বলে, ক্ষমতা কখনোই স্থায়ী নয়। স্থায়ী হলো জনগণের ইচ্ছা। জনগণকে উপেক্ষা করে যে শাসনব্যবস্থা দাঁড়ায়, তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। জাঁ জ্যাক রুশো বলেছিলেন, ‘সার্বভৌমত্ব জনগণের, শাসক শুধু প্রতিনিধি।’ জনগণ যদি গণভোটে মত দেয়, সেটি অগ্রাহ্য করার অর্থ জনগণের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা। এই অস্বীকারই ভবিষ্যতের সংকটের বীজ বপন করে।

বিজ্ঞাপন

গণভোট কোনো সাধারণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়। এটি জনগণের সরাসরি মতামত। সংসদ নয়। দল নয়। ব্যক্তি নয়। জনগণ নিজে কথা বলেন। সেই রায় বাতিলের উদ্যোগ মানে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে জনগণের ওপর বসানো। এটি গণতন্ত্রের উল্টোপথ। যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ইচ্ছা না থাকে, তবে গণভোট আয়োজন কেন? জনগণকে বিভ্রান্ত করা কি রাজনৈতিক কৌশল? নাকি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব? এখানে বিপজ্জনক একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে। আজ গণভোট বাতিলের উদ্যোগ। কাল নির্বাচন? পরশু সংবিধান? একবার যদি জনগণের সরাসরি রায়কে অকার্যকর করার সংস্কৃতি তৈরি হয়, তবে তা থামানো কঠিন।

দেড় দশক ধরে গুম, খুন, নিখোঁজ—এসব শব্দ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিধানে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। হাজার হাজার পরিবার অপেক্ষা করেছে। কেউ ফেরেনি। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীরা ছিলেন ভুক্তভোগীদের বড় অংশ। আজ দেখা যাচ্ছে, সেই দলগুলোর একটি অংশ গুমবিষয়ক অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—রাজনীতি কি স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত? যারা ভুক্তভোগী, তারা কেন বিচার প্রক্রিয়া দুর্বল করতে চাইবে?

এটি রাজনৈতিক বাস্তবতার জটিলতা হতে পারে। কিন্তু জনগণের চোখে এটি দ্বৈত মানদণ্ড। ক্ষমতায় গেলে এক কথা। বিরোধিতায় আরেক কথা। এই দ্বৈততা রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিচার বিভাগ বহুবার বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। অভিযোগ আছে—দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগ হয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন করতে। এই প্রেক্ষাপটে আবার বিচারক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক। প্রশ্ন উঠছে—পুরোনো পথেই কি হাঁটা হচ্ছে? বিচার বিভাগ যদি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় চলে যায়, তাহলে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। হান্না আর্নেট বলেছিলেন, ‘ক্ষমতা তখনই বিপজ্জনক হয়, যখন তা জবাবদিহি হারায়।’ বিচার বিভাগ জবাবদিহির অন্যতম স্তম্ভ। এই স্তম্ভ দুর্বল হলে রাষ্ট্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রক্তের দাগ আছে। ১৫ আগস্ট একটি রক্তাক্ত মোড়। একনায়কের পতন। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান-স্বৈরাচারের পতন।

জুলাই বিপ্লব-ফ্যাসিস্টের পতন এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা। প্রতিটি ঘটনার পেছনে জনগণের ক্ষোভ ছিল। বঞ্চনা ছিল। ক্ষমতার একচেটিয়াকরণ ছিল।

ইতিহাস বারবার একই বার্তা দিয়েছে। জনগণকে উপেক্ষা করলে পরিণতি কঠিন হয়। তবু শাসকরা ভুলে যান। আবার একই ভুল। আবার একই পথ।

বিএনপির ৩১ দফা রাজনৈতিক ইশতেহারে বলা হয়েছে—ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। কিন্তু এখন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিরোধিতা। এটি রাজনৈতিক দ্বৈততা তৈরি করছে। রাজনীতি যদি নীতির ওপর না দাঁড়ায়, তবে তা কৌশলে পরিণত হয়। কৌশল সাময়িক লাভ দেয়। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্বাস নষ্ট করে। জনগণ এখন প্রশ্ন করছে-ইশতেহার কি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য? বাস্তবে কি তার কোনো মূল্য নেই?

গণভোটে অংশ নেওয়া মানুষরা এখন হতবাক। তারা ভোট দিলেন। মত দিলেন। কিন্তু সেই মতামতই বাতিলের পথে। এটি রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে। জনগণ মনে করে, তাদের মতামত গুরুত্ব পায় না। এতে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ কমে যায়। মানুষ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এ অবস্থাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ যখন জনগণ রাজনীতি থেকে দূরে সরে যায়, তখন রাজনীতি চলে যায় সংকীর্ণ গোষ্ঠীর হাতে। ক্ষমতা থাকলেই বৈধতা আসে না। বৈধতা আসে জনগণের সম্মতি থেকে। গণভোট সেই সম্মতির প্রকাশ। রবার্ট ডাল গণতন্ত্রের একটি মূল শর্ত হিসেবে ‘effective participation’ বা কার্যকর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন। জনগণের অংশগ্রহণকে অকার্যকর করলে গণতন্ত্র ফাঁপা হয়ে যায়। গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করা মানে জনগণের অংশগ্রহণকে অকার্যকর করা।

আজ যদি গণভোট বাতিল হয়, কাল অন্য কোনো সিদ্ধান্ত বাতিল হতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের স্থায়িত্ব থাকে না। বিনিয়োগ কমে। প্রশাসনিক স্থিরতা নষ্ট হয়। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ে। সবচেয়ে বড় কথা—বিশ্বাস হারায়। জনগণ বিশ্বাস হারায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশে বহুবার দেখা গেছে—ক্ষমতাসীনরা মনে করেন, তারা স্থায়ী। কিন্তু ইতিহাস অন্য কথা বলে। ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। শাসকের পতন হয়েছে। প্রতিবারই কারণ একই—জনগণের ইচ্ছা উপেক্ষা। জুলাই বিপ্লবের পেছনেও ছিল সেই ক্ষোভ। সেই অসন্তোষ। সেই বঞ্চনা। এখন যদি আবার একই পথ নেওয়া হয়, তাহলে ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

সরকারের দায়িত্ব জনগণের রায় মানা। বিরোধী দলের দায়িত্ব নীতিগত অবস্থান নেওয়া। বিচার বিভাগের দায়িত্ব স্বাধীন থাকা। এই তিনটি ভারসাম্য না থাকলে রাষ্ট্র দুর্বল হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তিন ক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠছে। সরকার গণভোটের রায় নিয়ে দ্বিধায়। বিরোধী দল অবস্থান বদলাচ্ছে। বিচার বিভাগ নিয়ে বিতর্ক। সমাধান কঠিন নয়।

গণভোটের রায় সম্মান করতে হবে। বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হবে। রাজনৈতিক দ্বৈততা পরিহার করতে হবে। সংবিধান সংস্কার নিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা—জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ বহু রক্তের বিনিময়ে এই জায়গায় এসেছে। প্রতিটি বিপ্লবের পেছনে ছিল জনগণের আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করলে সংকট তৈরি হয়। ইতিহাস সতর্ক করছে। জনগণ দেখছে। রাজনীতি পরীক্ষা দিচ্ছে। শাসকদের মনে রাখা উচিত—ক্ষমতা সাময়িক, জনগণ স্থায়ী। গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করা মানে জনগণকে অগ্রাহ্য করা। আর জনগণকে অগ্রাহ্য করার পরিণতি ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে।

এই মুহূর্তে প্রয়োজন সংযম। প্রয়োজন নীতির প্রতি অঙ্গীকার। প্রয়োজন জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান। নইলে আবার ইতিহাস লিখবে—শাসকরা শিক্ষা নেয়নি। আর তার মূল্য দিয়েছে দেশ।

তারেক-রহমান

দল-সরকার একাকার : বিপজ্জনক পুনরাবৃত্তির পথে রাজনীতি

কে দল? কে সরকার? সীমারেখা অস্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রীর কাজের আপডেট যাচ্ছে দলীয় পেজে। আবার দলীয় প্রধান হিসেবে তার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের খবর যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর পেজে। প্রশ্ন উঠছে—এ বিভ্রান্তি কেন? গণতন্ত্রে দল ও সরকার আলাদা। এটি মৌলিক নীতি। সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। দল রাজনৈতিক সংগঠন চালায়। এই দুইয়ের সীমারেখা ভেঙে গেলে রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দলীয়করণ শুরু হয়। প্রশাসন বিভ্রান্ত হয়। জনগণের আস্থা কমে।

বাংলাদেশ এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। দল ও সরকার একাকার হয়ে যাওয়ার উদাহরণ নতুন নয়। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ নিজেদের দলীয় কাঠামোকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে মিশিয়ে ফেলেছিল। প্রশাসন, প্রচার, সিদ্ধান্ত—সব এক হয়ে গিয়েছিল। ফলাফল? শেষ পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে দলটিরই বেশি। রাষ্ট্রীয় সমালোচনা দলীয় সমালোচনায় পরিণত হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতা দলীয় ব্যর্থতায় রূপ নিয়েছে। এখন একই প্রবণতা আবার দেখা যাচ্ছে। ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি। কিন্তু একই পথ। একই ভুল। একই ঝুঁকি।

গণতন্ত্রে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত জনগণের। রাষ্ট্রের। দলীয় নয়। কিন্তু দল ও সরকার এক হলে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তও দলীয় সিদ্ধান্ত মনে হয়। তখন বিরোধিতা মানেই রাষ্ট্রবিরোধিতা—এমন পরিবেশ তৈরি হয়। এটি গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।

ম্যাক্স ওয়েভার রাষ্ট্র ও দলের পার্থক্য নিয়ে বলেছিলেন—রাষ্ট্রের বৈধতা আসে নিরপেক্ষতা থেকে, দল আসে মতাদর্শ থেকে। যখন এই দুই এক হয়ে যায়, তখন রাষ্ট্র দলীয় হয়ে পড়ে। আর দল রাষ্ট্রের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। তখন সংঘাত বাড়ে।

বাংলাদেশে দল-সরকার একাকার হওয়ার বড় সমস্যা হলো প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা হারানো। কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন না—তারা রাষ্ট্রের সেবা করবেন, না দলের। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দ্বিধা তৈরি হয়। কেউ নিরাপদ থাকতে দলীয় লাইনে হাঁটেন। এতে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়। আরেকটি সমস্যা হলো প্রচার। সরকারি পেজে দলীয় বার্তা গেলে রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে। জনগণ বিভ্রান্ত হয়। রাষ্ট্রীয় ঘোষণার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রচারে মিশে যায়। ফলে তথ্যের নিরপেক্ষতা হারায়।

এখানে আরেকটি বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি আছে। দল যখন সরকার হয়ে যায়, তখন দলের ভেতরে ভিন্নমত কমে যায়। কারণ সমালোচনা মানেই সরকার সমালোচনা। ফলে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দল কঠোর হয়। সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীভূত হয়। জুয়ান লিনজ সতর্ক করেছিলেন—দল ও রাষ্ট্রের মিশ্রণ কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা তৈরি করে। এতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা দুর্বল হয়। গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ে।

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এই সতর্কতা প্রাসঙ্গিক। কারণ রাজনীতি এখনো রূপান্তরের পথে। প্রতিষ্ঠানগুলো নাজুক। এ সময় দল-সরকার বিভ্রান্তি আরো বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

প্রশ্ন হলো—এই বিভ্রান্তি কেন তৈরি হচ্ছে? প্রথমত, ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতি। সবকিছু এক ব্যক্তির কেন্দ্রে। ফলে ব্যক্তি মানেই দল। ব্যক্তি মানেই সরকার। এই সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক প্রচারের আধুনিক মাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় ও সরকারি প্ল্যাটফর্ম আলাদা না রাখা। এতে বার্তা গুলিয়ে যায়। তৃতীয়ত, ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ। সিদ্ধান্ত এক জায়গায়। দায়িত্ব আলাদা নয়। ফলে কাঠামোগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতি দীর্ঘ মেয়াদে দলটির জন্যও ক্ষতিকর। সরকার ভুল করলে দল দায় নেয়। দল ভুল করলে সরকার দায় নেয়। দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকে না। বিরোধিতা বাড়ে। সমালোচনা তীব্র হয়। ইতিহাস বলে, দল-সরকার এক হয়ে গেলে পতন দ্রুত হয়। কারণ জনগণের ক্ষোভের লক্ষ এক হয়ে যায়। প্রতিরক্ষা দেয়াল থাকে না।

সমাধান কঠিন নয়। দলীয় পেজে দলীয় কর্মকাণ্ড। সরকারি পেজে সরকারি কাজ। দলীয় বক্তব্য আলাদা। রাষ্ট্রীয় ঘোষণা আলাদা। এটি শুধু যোগাযোগের বিষয় নয়। এটি রাজনৈতিক নীতির বিষয়। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিষয়। দলকে শক্তিশালী করতে হলে তাকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা থাকতে হবে। সরকারকে গ্রহণযোগ্য করতে হলে তাকে দল থেকে দূরে থাকতে হবে। এই ভারসাম্যই গণতন্ত্রের প্রাণ।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। গণভোট বিতর্ক। বিচার বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন। সংবিধান সংস্কার নিয়ে দ্বন্দ্ব। তার ওপর যদি দল-সরকার একাকার হওয়ার প্রবণতা যোগ হয়, তাহলে সংকট আরো গভীর হবে। রাজনীতির জন্য এটি সতর্কবার্তা। দলের জন্য এটি আত্মসমালোচনার সময়। সরকারের জন্য এটি নীতিগত সিদ্ধান্তের মুহূর্ত। ইতিহাস আবার সুযোগ দিয়েছে। ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ। দল ও সরকার আলাদা রাখার সুযোগ। নইলে আবার একই অভিযোগ উঠবে—ক্ষমতায় গিয়ে সবাই এক হয়ে যায়। আর জনগণ থাকে বাইরে।

লেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন