সংরক্ষিত আসনে জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত হবে কাল

রকীবুল হক

সংরক্ষিত আসনে জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত হবে কাল

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থীদের মনোনয়পত্র জমা দিতে হবে আগামী ২১ এপ্রিলের মধ্যে। সে অনুযায়ী দলীয় কোটার আলোকে প্রার্থী চূড়ান্ত করছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এরই মধ্যে দলের মহিলা বিভাগের প্রস্তাবিত তালিকা নিয়ে পর্যালোচনা করেছে দলটি। তালিকার বাইরেও যোগ্য প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে। তবে অন্য দলের মতো প্রার্থী হতে আগ্রহীদের কোনো ভিড় নেই জামায়াতে। দলীয় কোনো মনোনয়ন ফরমও ছাড়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র বিভিন্ন মাধ্যমে দলের পক্ষ থেকে বাছাইকৃত নির্ধারিত সংখ্যক প্রার্থীই মনোনয়ন পাবেন।

জানা গেছে, দলীয় নেতৃত্বে ও সাংগঠনিক কাজে দীর্ঘদিনের ত্যাগ এবং সংসদে যথাযথ ভূমিকা রাখার মতো যোগ্যদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য জামায়াতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে নারী আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সূত্রমতে, সংসদে বিরোধী দলের ৭৭ সংসদ সদস্যের কোটা হিসেবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ১৩ নারী সদস্য পাবে। এরমধ্যে ৬৮ সংসদ সদস্যের আনুপাতিক হারে জামায়াতে ইসলামী পাবে ১২ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির ছয় সসস্যের অনুপাতে দলটি একজন নারী প্রতিনিধি পাবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুজন এবং খেলাফত মজলিসের একজন সংসদ সদস্য থাকলেও তাদের কোনো নারী প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকছে না। এ দুটি দলসহ এনসিপির পক্ষ থেকে বাড়তি সংখ্যক এবং ১১ দলীয় ঐক্যের অন্য দল থেকে নারী প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতের ১২ জন এবং এনসিপির একজন নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম আমার দেশকে জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বাছাই নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে মহিলা বিভাগ থেকে নাম প্রস্তাব করে একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। তবে সেটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। প্রস্তাবিত নাম এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি আগামী নির্বাহী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।

দলীয় একটি সূত্র জানায়, আগামীকাল মঙ্গলবার মগবাজারে জামায়াতের প্রধান কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

মাওলানা আব্দুল হালিম আরো জানান, জামায়াত থেকে ১২ জনকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। বাকি একজন পাবে এনসিপি। জামায়াতের অনেক ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এটি চূড়ান্ত করতে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নারী আসনের মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই দলীয় দায়িত্বশীল, সাংগঠনিক মান এবং সংসদে আইনগত দিক নিয়ে কথা বলার মতো যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আইনজীবীসহ পেশাজীবীদেরও প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। তবে প্রার্থীকে কমপক্ষে ‘রুকন’ মানের হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, জামায়াতের সংসদ সদস্যদের পরিবার থেকে নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে মহিলা জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এবং যোগ্য হিসেবে এক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম হতে পারে। তাছাড়া ঢাকার বাইরে যেসব এলাকায় জামায়াতের সংসদ সদস্য নেই, সে এলাকাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দলীয়ভাবে এখনো কোনো প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা না হলেও বেশকিছু নাম আলোচিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে আছেনÑজামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মানবসম্পদ ও আইন বিভাগের সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, জামায়াত আমিরের স্ত্রী ও দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আমেনা, রাজনৈতিক বিভাগের সম্পাদক ও ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, পরাজিত এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দির সরকারের স্ত্রী ও সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ডা. ফেরদৌস আরা খানম বকুল, টকশো ব্যক্তিত্ব ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজ প্রমুখ।

এছাড়া মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যরা হলেনÑসাঈদা রুম্মান ও মার্জিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি), উম্মে ন‌ওরীন, খন্দকার আয়েশা খাতুন, খন্দকার আয়েশা সিদ্দিকা, নাজমুন নাহার নীলু, রোজিনা আক্তার, ইরানী আক্তার, আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, সুফিয়া জামাল, সালমা সুলতানা, মাহবুবা জাহান, শামীমা বেগম চুনি, আমেনা বেগম, মাহবুবা খাতুন শরীফা, উম্মে খালেদা জাহান এবং জান্নাতুল কারীমা সুইটি। তাদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেতে পারেন বলে জানা গেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...