ওপেনিংয়ে থিতু সাইফ-তানজিদ

স্পোর্টস রিপোর্টার

ওপেনিংয়ে থিতু সাইফ-তানজিদ

সবশেষ পাকিস্তান সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে ওপেনিংয়ে ভালো শুরু পায়নি বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় ওয়ানডেতে দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিম মিলে এনে দেন উড়ন্ত সূচনা। দুজন মিলে যোগ করেছিলেন ১০৫ রান। সব মিলিয়ে এই জুটি এখন পর্যন্ত ওপেনিংয়ে পাঁচবার খেলেছে। এ সময় তারা দুজন ওপেনিংয়ে মোট ১৬৩ রান তুলেছে। হয়তো বলার মতো কোনো সংগ্রহ নয়, তবে তারা দুজনই আছেন দারুণ ছন্দে।

বিজ্ঞাপন

গত সোমবার প্রস্তুতি ম্যাচেও দারুণ রান করেছেন সাইফ হাসান। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডেতে তো সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। দুজনের ছন্দে আর ব্যাঘাত ঘটাতে চায় না বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। ফলে নিউজিল্যান্ড সিরিজেও একই ওপেনিং জুটি নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সেটাই বলে গেছেন হেড কোচ ফিল সিমন্স।

সৌম্য সরকারও দারুণ ছন্দে ছিলেন সবশেষ খেলা ওয়ানডে ম্যাচে। ওই ম্যাচে দারুণ খেলার পরও কেন তাকে সাইডবেঞ্চে রাখা হয়েছে? সেই ব্যাখ্যাটাও স্পষ্ট করেছেন ফিল সিমন্স। তার কথায়, ‘সৌম্য দারুণ। সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ খেলেছে। কিন্তু তবু আমাদের চয়েস করতে হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ও বিপিএলের মাঝে প্রচুর ম্যাচ মিস করেছে। যেটা বিসিএল পর্যন্ত ছিল। তাই আমাদের নতুন কিছু পছন্দ করতে হয়েছে। আর এজন্য দুর্ভাগ্য অন্যরা ভালো করেছে। সেখানে (ওপেনিং) ফিরতে তাকে লড়াই করতে হবে।’

কেন সাইফ-তানজিদ ওপেনিং জুটি থেকে বের হতে চান নাÑসিমন্স সেটারও দারুণ এক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা প্রায় স্থিতিশীল এই জুটিতে। কারণ আমরা শেষ ম্যাচে দারুণ একটা জুটি পেয়েছি। পরে প্রস্তুতি ম্যাচে সাইফ দারুণ করেছে। যেটা আমরা তার কাছ থেকে প্রত্যাশা করি, তেমন। আমার মনে হয় এখনকার জন্য আমরা স্থিতিশীল অবস্থায় আছি।’

ওপেনিংয়ের মতো প্রত্যাশা আছে একই ধরনের উইকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে উইকেটে দেখা মিলেছে বাড়তি পেসের। এই সুবিধায় নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশকে বাড়তি চ্যালেঞ্জ জানাবে কি না সেটা নিয়ে আছে প্রশ্ন।

চ্যালেঞ্জ থাকবে সেটা ভালোমতোই জানেন কোচ সিমন্স। তবে পাকিস্তানের মতো শুধু পেস দিয়েই চ্যালেঞ্জ জানাবে এমনটা বিশ্বাস করেন না তিনি। তার কথায়, ‘পাকিস্তানের দারুণ কিছু পেসার ছিল। যেকোনো সিরিজেই চ্যালেঞ্জ থাকবে। সম্ভবত নিউজিল্যান্ড আমাদের ভিন্নভাবে চ্যালেঞ্জ জানাবে। আমরা চ্যালেঞ্জের জন্য অপেক্ষায় আছি। সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তান সিরিজের আগেও এভাবেই ভেবেছি আমরা। আশা করি, সামনে দারুণ প্রতিযোগিতা হবে।’

তবে উইকেট নিয়ে বাড়তি কিছু বলেননি হেড কোচ ফিল সিমন্স। তার কথায়, ‘আমি এখনো উইকেট দেখিনি। বাস থেকে নেমে সরাসরি এখানে এসেছি। আশা করি আমি পরে উইকেট দেখব।’

এছাড়া লম্বা সময় পর প্রায় পুরো ম্যাচ দিনের আলোয় খেলবে বাংলাদেশ দল। বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে এবার বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের ওয়ানডে ম্যাচগুলো মাঠে গড়াবে সকাল ১১টা থেকে। লম্বা সময় পর দিনের আলোয় খেলায় সেটা খানিকটা ভিন্নতা আনবে বলে মনে করেন সিমন্স।

তার কথায়, ‘এটা অবশ্যই খানিকটা পরিবর্তন আনবে। যখন দিনের আলোয় খেলবেন, উইকেট খানিকটা গ্রিপ করবে। খানিকটা ধীরগতিতে বল আসবে। কিন্তু এ সময়ে অনুশীলন করেছি। মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি আছে।’

সব মিলিয়ে বাড়তি চ্যালেঞ্জের জন্য বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশ দল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন