দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভঙ্গুর অর্থনীতি কাটিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন পাকিস্তান। ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতা করার পর আজ রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ইসলামাবাদ সেজেছে নতুন রূপে। রাজধানীর রাস্তায় ডিজিটাল বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে ‘ইসলামাবাদ টকস’। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকার মাঝে সগৌরবে স্থান পেয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় প্রতীক। এ উপলক্ষে দেশটিতে দুই দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশ্বশান্তির চাবিকাঠি
বিশ্বের নজর এখন এই আলোচনার দিকে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং সংঘাত বন্ধের প্রত্যাশা করছে সারা বিশ্ব। এ বিষয়ে নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ আব্দুল বাসিত বলেন, ‘এটি পাকিস্তানের জন্য একটি বড় জয়। যেখানে বিশ্বের কোনো দেশ এই অস্ত্রবিরতি কার্যকর করতে পারছিল না, সেখানে পাকিস্তান একটি সম্ভাব্য মহাবিপর্যয় রুখে দিয়েছে।’
ঝুঁকি ও সম্ভাবনা
তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে বড় ঝুঁকি। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা ব্যর্থ হলে এবং প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হলে পাকিস্তান এক 'ভয়াবহ পরিস্থিতির' মুখে পড়তে পারে। মাত্র দুই বছর আগে ঋণখেলাপির দ্বারপ্রান্তে থাকা এবং ভারতের সঙ্গে চিরবৈরী সম্পর্কের চাপে থাকা দেশটির জন্য এই আলোচনার সাফল্য এখন অত্যন্ত জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন পাকিস্তানিরা। বিভিন্ন মিম ও পোস্টের মাধ্যমে তারা দেশটির এই কূটনৈতিক বিজয়কে উদযাপন করছেন। এখন দেখার বিষয়, ইসলামাবাদের এই টেবিল বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে কতটা কার্যকর হয়।
সূত্র : আলজাজিরা
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

