হাজীগঞ্জে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১

উপজেলা প্রতিনিধি, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর)

হাজীগঞ্জে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সেলিম হোসেন কবিরাজ নামের এক অটোচালককে পিটিয়ে হত্যার মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামি নুরুল ইসলাম। মামলায় তার নাম উল্লেখ আছে।

এর আগে শনিবার বিকেলে নিহত মো. সেলিম হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়। তিনি উপজেলার হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের গৌড়েশ্বর গ্রামের কবিরাজ বাড়ির মো. আবুল কালাম কালুর ছেলে। এদিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

এর আগে নিহত মো. সেলিম হোসেনের ছেলে ইয়াছিন হোসেন সবুজ সাতজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন একই গ্রামের কাজী বাড়ির মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে আলী আকবর কাজী ও আনিসুর রহমান কাজী, আনোয়ার হোসেন কাজীর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন কাজী ও রাশেদ কাজী, আবু সুফিয়ানের ছেলে রাব্বী কাজী, আলী আজ্জমের ছেলে নুরুল ইসলাম কাজী ও আনিসুর রহমানের স্ত্রী রিনা বেগম।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, নিহতের সেলিম কবিরাজের সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহত সেলিমের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানের চারা রোপনের সময় কবিরাজ বাড়ির জাহাঙ্গীরের সাথে একই গ্রামের কাজী বাড়ির আজিজ কাজীর সাথে বিবাদের এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন সন্ধ্যায় আজিজের বড় ভাই চাঁন মিয়ার সাথে জাহাঙ্গীরের ভাতিজা ও সেলিমের ছেলের সাথে মারামারি হয়। বিষয়টি জানার পর ইউপি সদস্য সমাধানের উদ্যোগ নেন।

এরপর শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় মসজিদ মাঠে জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই সেলিমকে পিটিয়ে আহত করেন আজিজ কাজীর চাচা আকবর কাজীসহ তাদের পরিবারের অন্যান্য লোকজন। এসময় স্থানীয়রা ও সেলিমের পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সেলিমকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে রেপার করেন এবং সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ দিকে সেলিম হোসেনের মৃত্যুর খবর পেয়ে অভিযুক্ত আকবর কাজীসহ তাদের পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা নিজ বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এসময় ঘটনাস্থল ও কাজী বাড়িতে অভিযুক্তসহ তাদের পরিবারের কাউকে না পাওয়ায় এবং আকবর কাজীর ফোনটি বন্ধ থাকায় তার ও তার পরিবারের কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে নিহত সেলিমের ছোট ভাই ও ইউনিয়ন মৎস্যজীবি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নবীর জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ভাই সেলিমকে পরিকল্পিতভাবে আকবার কাজী ও আজিজ কাজীসহ তাদের পরিবারের সকল সদস্য ও ভাড়াকরা লোকজনকে নিয়ে অতর্কিত হামলার পর পিটিয়ে হত্যা করে। অথচ ওই তুচ্ছ ঘটনার সাথে তার ভাই সেলিম জড়িত ছিলেন না বলে তিনি জানান।

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...